মাকে বাঁচাতে নিজেকে ‘বিক্রি’র ঘোষণা কলেজছাত্রের 
মাকে বাঁচাতে নিজেকে ‘বিক্রি’র ঘোষণা কলেজছাত্রের 

সংগৃহীত ছবি

মাকে বাঁচাতে নিজেকে ‘বিক্রি’র ঘোষণা কলেজছাত্রের 

অনলাইন ডেস্ক

শ্রমিক হিসাবে ১০ বছরের জন্য নিজেকে বিক্রি করতে চান বান্দরবানের আনোয়ারুল ইসলাম মামুন। মায়ের জন্য নিজেকেও বিক্রির এই ঘোষণা দেন বান্দারবন সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের এই ছাত্র। তার এই ফেসবুক পোস্ট মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

মামুন জানান, তাঁর মা খালেদা বেগমকে বাঁচাতেই নিজেকে বিক্রি করতে চাইছেন তিনি।


শ্রমিক হিসাবে ১০ বছরের জন্য নিজেকে বিক্রি করতে চান। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ কথা জানান বান্দারবন সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের এই ছাত্র।  

তিনি জানান, তাঁর মা খালেদা বেগমকে বাঁচাতেই নিজেকে বিক্রি করতে চাইছেন তিনি। জানা গেছে, খালেদা বেগমের জরায়ুতে ক্যান্সার হয়েছে।

মাস চারেক আগে ধরা পড়ে ক্যান্সার। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে সারা শরীরে। বাম দিকের একটি কিডনিও পুরো নষ্ট হয়ে গেছে তাঁর। অন্য কিডনি চালু রাখার জন্য বসানো হয়েছে পাইপ। সেইসঙ্গে তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত। এখন চলছে কেমোথেরাপি। গত চার মাসে তাঁর চিকিৎসার জন্য খরচ হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। মামুনদের যে জমি জায়গা ছিল তা বিক্রি করতে হয়েছে। ওই টাকায় করা হয় খালেদার চিকিৎসা। জমি বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া গিয়েছিল তার পরেও ধার করতে হয়েছে মামুনকে। এখন আর কেউ তাঁকে টাকা ধার হিসাবে দিতে চাইছেন না। কী করে এখন মায়ের চিকিৎসা করাবেন তা বুঝতে পারছেন না মামুন। তাই নিজেকে শ্রমিক হিসাবে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই কলেজ ছাত্র। সে কারণে ফেসবুকে ওই ঘোষণা করেন তিনি।  

গ্রেট ইন্ডিয়ান ফেস্টিভ্যাল দারুণ সব ছাড়, পালটে ফেলুন নিজের ওয়ার্ডড্রোপ

মামুন বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলী পাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবা নুরুল ইসলাম আগে কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। এখন বয়স হওয়ার কারণে তিনি আর কাজ করতে পারেন না। পড়ার খরচ জোগাড় করতে আগে সেখানের একটি বেসরকারি সংস্থায় পার্টটাইম কাজ করতেন মামুন। কিন্তু মায়ের অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি কাজে। মাসখানেক আগে চলে যায় তাঁর সেই চাকরিও।  

মামুন বলেন, ‘মায়ের জন্য আমি সব করতে পারি। নিজের পড়ার খরচ চালাতে গত ছ’বছর ধরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। তা দিয়েই লেখাপড়া, ঘরভাড়াসহ মায়ের চিকিৎসা করিয়েছি। ’ 

তিনি বলেন, ‘অনেকের কাছেই সাহায্য চেয়েছি। কিন্তু এখন আর কেউ এগিয়ে আসতে চাইছেন না। বৈধ উপায়ে আমি যেকোনো কাজ করব। নিজেকে শ্রমিক হিসাবে বিক্রি হতেও আমার আপত্তি নেই। আমি চাই আমার মা সুস্থ হয়ে উঠুক। ’ 

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং তাঁর বাসভবনে ডেকেছিলেন মামুনকে। মামুনের মায়ের খোঁজখবর নেন তিনি। খালেদার চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এছাড়া অনেকের কাছ থেকে ২৫ টাকার মত পেয়েছেন বলে জানান মামুন। আলীকদম সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের মতে, সমাজের বিত্তবানদের উচিত মামুনের পাশে দাঁড়ানো।

news24bd.tv/ইস্রাফিল