হাসির জায়গায় কোহলি, পোড়া কপালে সেই পাকিস্তান 
হাসির জায়গায় কোহলি, পোড়া কপালে সেই পাকিস্তান 

সংগৃহীত ছবি

হাসির জায়গায় কোহলি, পোড়া কপালে সেই পাকিস্তান 

অনলাইন ডেস্ক

অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব, অবিস্মরণীয়! টি২০ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয়কে আসলে এর চেয়ে ভালোভাবে হয়তো আর ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৩৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে একটা সময় কাঁপছিল ভারত। সেখানে থেকে বিরাট কোহলি-হার্দিক পান্ডিয়ার রেকর্ড গড়া জুটি এবং শেষে চূড়ান্ত নাটকীয়তা-টি২০ ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ম্যাচটা দেখে ফেলল ক্রিকেট বিশ্ব।

পাক-ভারত ম্যাচ মানেই ধ্রুপদী লড়াই।

গেল টি২০ বিশ্বকাপে দুবাইয়ে ভারত অবশ্য পাত্তাই পায়নি পাকিস্তানের কাছে। হারে ১০ উইকেটে। সে শোধ আজকে তুলল ভারত। সেটা পাকিস্তানের নাকের ডগা থেকে তাদের জয় ছিনিয়ে নিয়ে।
যে জয়ের নায়ক ব্যাট হাতে পুনর্জন্ম নেওয়া কোহলি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া হার্দিকের অবদানও ভুলে যাওয়ার নয়। বল হাতে ৩ উইকেট শিকারের পর ব্যাট হাতে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন তিনি।

তবে জয়ের পর পাদপ্রদীপের আলোয় কোহলি। যে কোহলি গত এশিয়া কাপের আগেও ভুগছিলেন রান খরায়। রান করতে তার চলত হাপিত্যেশ। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার ওই অনবদ্য সেঞ্চুরি যে কোনো দুর্ঘটনা নয়, আজকের ৮২ রানের ঝকঝকে ইনিংসে প্রমাণ করলেন। ব্যাট হাতে জাদুকরী ইনিংস খেলার পথে কোহলি পাকিস্তানের কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটেও দিয়েছেন।

ম্যাচ জিততে শেষ ১৮ বলে ভারতের দরকার ছিল ৪৮ রান। এমন বারুদে ঠাঁসা ম্যাচে ওভারপ্রতি ১৬ রান তাড়া করা চাট্টিখানি কথা নয়। ভারত অভাবনীয় সেই কাজটাই করেছে। তাতে হয়ে গেছে দারুণ এক রেকর্ডও। টি২০ বিশ্বকাপে শেষ ৩ ওভারে সবচেয়ে বেশি রান সফলভাবে তাড়া করার রেকর্ডটি আজ নিজেদের করে নিলো ভারতীয়রা। যৌথভাবে তাদের সঙ্গী ২০১০ সালে এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই ৪৮ রান তোলা অস্ট্রেলিয়া।

মেলবোর্নে আজ কোহলি যেন পাকিস্তানকে পরাজয়ের বেদনা ছাড়া দুঃসহ এক স্মৃতিই মনে করিয়ে দিলেন। ২০১০ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে যে কাজটা করেছিলেন মাইকেল হাসি। গ্রস আইলেটে সেবার এই বাঁহাতি ব্যাটার একাই পাকিস্তানের হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে যান। আজ যেমনটা করলেন কোহলি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের শেষ ৪৮ রানের ৩৬ রানই এসেছে তার ব্যাট থেকে। যদিও হাসি ছিলেন আরও অনবদ্য! সে সময়ের সেরা স্পিনার সাঈদ আজমলকে রীতিমতো পাড়ার বোলার বানিয়ে ৪৪ রান করেন মাত্র ১৩ বলে। সেমিফাইনালে এরকম হার পাকিস্তানকে নিঃসন্দেহে এখনো কাঁদায়। তবে সেটা ভুলে থাকতে চাইলেও কোহলি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের বলেই কি-না, ফের মনে করানোর কাজটি করলেন ঠিকঠাক!

news24bd.tv/সাব্বির