যুক্তরাজ্যের গ্যাস লাইনে হানা দিতে পারে রাশিয়া
যুক্তরাজ্যের গ্যাস লাইনে হানা দিতে পারে রাশিয়া

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যের গ্যাস লাইনে হানা দিতে পারে রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই কিয়েভকে সমর্থন করে আসছে যুক্তরাজ্য। এমনকি মস্কো থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে তারা। যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞাসহ ইউক্রেনকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে যুক্তরাজ্য।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে ব্রিটেনে জ্বালানির দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।

অস্বস্তিতে রয়েছে দেশটির সাধারণ ভোক্তারা। এবার সেই সমস্যা আরও প্রকট করতে যাচ্ছে মস্কো। ব্রিটেনে আসা গ্যাস পাইপলাইনে নাশকতা করতে যাচ্ছে তারা। এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইল।

সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের জন্য ব্রিটেনকে শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর রাশিয়া। যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মধ্যে থাকা মূল গ্যাস পাইপলাইনে নাশকতা চালানোর ষড়যন্ত্র করছে তারা। এতে করে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের ওপর জ্বালানির চাপ আরও বাড়বে।

ব্রিটেনে সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্র ডেইলি মেইলকে জানিয়েছে, লাংগেলেড পাইপলাইন দিয়ে যুক্তরাজ্যে গ্যাস পাঠায় নরওয়ে। এটি দিয়ে ব্রিটেনে চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ গ্যাস আসে। এ পাইপলাইনটিতে নাশকতার চেষ্টা চালাতে পারে মস্কো।

ডেইলি মেইল বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। মস্কো জ্বালানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে দাবি পশ্চিমাদের।

বল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে জার্মানি পর্যন্ত যাওয়া নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে রাশিয়া নাশকতা চালিয়েছে বলে ওই সূত্র ডেইলি মেইলকে জানিয়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে মস্কো। তাদের তীর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে।

ন্যাটোর এক সূত্র ডেইলি মেইলকে বলেছে, ‘যদি রাশিয়া ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ করতে চায়, তাহলে নাশকতায় তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ। কারণ ব্রিটেনের জ্বালানি পরিস্থিতি ভালো নেই। ’

উত্তর সাগরের জ্বালানি অবকাঠামোতে নাশকতার কথা আগে থেকেই জানিয়ে আসছে ব্রিটেন ও নরওয়ে। তবে কোথায় এই নাশকতা হতে পারে তা নিয়ে মুখ খোলেনি কোনো কর্তৃপক্ষ।

গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর হুমকির বিষয়ে কাজ করা ন্যাটোর এক কর্মকর্তা ডেইলি মেইলকে জানিয়েছে, ‘যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের জন্য গ্যাসের বড় যোগানদাতা হয়ে উঠেছে নরওয়ে। ৭২৫ মাইল দীর্ঘ লাংগেলেড পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহ করছে তারা। আর এ কারণেই এটাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। ’

নরওয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে সংহতি ভাঙতে এবং গ্যাসের প্রবাহকে ব্যাহত করতে পাইপলাইনের দিকে নজর রাখছে ক্রেমলিন। শীতে যখন জ্বালানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে তখন গ্যাসের জন্য সাধারণ মানুষেরা পুতিনের পক্ষ নেবেন। এমন কৌশলেই যাচ্ছে মস্কো। ’

ইইউর এক কূটনৈতিক বলেন, পাইপলাইনে রাশিয়ার নাশকতা নিয়ে নরওয়ে চরমভাবে উদ্বিগ্ন।

news24bd.tv/মামুন