বিদায়ক্ষণে যা বললেন ডিএমপি কমিশনার
বিদায়ক্ষণে যা বললেন ডিএমপি কমিশনার

বিদায়ক্ষণে যা বললেন ডিএমপি কমিশনার

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিলেন মোহা. শফিকুল ইসলাম। সেইসাথে বিদায় জানালের দীর্ঘ ৩৩ বছরের চাকরিজীবনের। গত বছর অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও চাকরির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধিতে শনিবার (২৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান তিনি।

শুক্রবার তার বিদায়ে (২৮ অক্টোবর) রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এক আড়ম্বর সংবর্ধনার আয়োজন করে পুলিশ সদস্যরা।

এসময় বিদায়ী কমিশনার বলেন, ‘ভালো কাজের জন্য কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না, জবাবদিহি করতে হয় মন্দ কাজের জন্য। আমরা মানুষের ভালো কাজের প্রশংসা করতে জানি না, মানুষের কাজের জন্য কৃতিত্ব দিতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করি। '

তিনি বলেন, 'আমি সহকর্মীদের ওপর কোনোদিন নিজের বীরত্ব জাহির করিনি। যার যার কাজের জন্য তাকে প্রশংসিত করেছি।

আরেকজনের অর্জনকে নিজের অর্জন বলে ছিনিয়ে নেইনি। চাকরিজীবনে কারও জন্য দুঃখ-কষ্টের কারণ হই নাই। ’

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মানুষ যেন পুলিশ দেখে আতঙ্কিত না হয়, মানুষ যেন পুলিশ দেখে আশ্বস্ত হয় এমনভাবে কাজ করেছি। আল্লাহ বলেছেন মজলুম ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না। একজন মজলুম যখন কষ্ট পেয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তোলে তখন সেটা কবুল হয়ে যায়। তাই আমরা এমনভাবে কাজ করব যেন মানুষ অত্যাচারিত হয়ে পুলিশের কাছে আসার পর, তাদের অত্যাচারের বোঝা আমরা আরও বাড়িয়ে না দিই। যখন মানুষের জন্য ভালো কিছু করার সুযোগ থাকে, সময় থাকতে এ সময়টা কাজে লাগাতে হবে। কেননা আমরা কেউই একসময় থাকব না। ’

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে সদ্য বিদায়ী এ কমিশনার বলেন, ‘সে সময়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে যে সমস্ত পুলিশ সদস্য ছিলেন তারা ট্যাংকের বিরুদ্ধে থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। যারা দেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন তাদের জন্য যেন আমরা কিছু করতে পারি। তাদের অবদান যেন ভুলে না যাই। ’

পুলিশের ত্যাগ ও কার্যকলাপের বিষয়ে কমিশনার বলেন, ‘আমরা রাতের পর রাত ঘুমাই না, রাস্তায় পাহারা দিই। আমরা যদি এমনিভাবে পাহারা না দিতাম তাহলে হাজার হাজার অপরাধ সংঘটিত হতো। চাকরিজীবনের সব সময় চেষ্টা করেছি যাতে মানুষের কাছ থেকে শুনতে পারি, পুলিশ আমার জন্য চেষ্টা করেছে। আপনাদের সবার কাছে আমার অনুরোধ, চাকরিজীবনে এমনভাবে কাজ করবেন যাতে মানুষ বলে যে পুলিশ আমাদের জন্য চেষ্টা করেছে। আমরা যদি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করি, মানুষের জন্য কাজ করি তাহলে জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কথা শুনবেন, আমাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন। ’

সহকর্মীদের উদ্দেশে বিদায়ী কমিশনরা বলেন, ‘আপনাদের যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, যেকোনো সময় নিঃসংকোচে আমাকে জানাবেন। আমার সাহায্যের দ্বার আপনাদের জন্য খোলা রইল। যেকোনো প্রয়োজনে আমি সব সময় আপনাদের পাশে থাকব। ’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ সহ-যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ও উপ-পুলিশ কমিশনারগণসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

মোহা. শফিকুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার নওদাবন্ড বিল দোয়ারপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে অষ্টম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন শফিকুল ইসলাম। এরপর ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশর ৩৪তম কমিশনার হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেন। তিনি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ কমিশনার হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে অ্যান্টিটেরোরিজম ইউনিট, ঢাকায় যোগদান করেন। ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে এবং সর্বশেষ তিনি ২০১৯ সালের ১৬ মে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।

news24bd.tv/FA