খালেদা জিয়ার বাড়ি দখলমুক্তি গণতন্ত্রের বড় সাফল্য 
খালেদা জিয়ার বাড়ি দখলমুক্তি গণতন্ত্রের বড় সাফল্য 

খালেদা জিয়ার বাড়ি দখলমুক্তি গণতন্ত্রের বড় সাফল্য 

সোহেল সানি 

সাধারণ মানুষের চোখ মূলত শেখ হাসিনার উন্নয়নের দিকে। যে কারণে বিরোধী বিএনপি-জামাতের আন্দোলন সংগ্রামের প্রতি মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ হচ্ছে না। বিশেষত, কর্মসূচিগুলো প্রতিহিংসামূলক হওয়ার কারণেও এতে জনগনের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বিগত দিনে অগ্নিসংযোগসহ নানা তান্ডবে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনায় জনগণের কাছে বিরোধী কর্মসূচির প্রতি নাভিশ্বাস উঠে।

আগামী ১০ ডিসেম্বরে সরকার উচ্ছেদের পরোক্ষ হুশিয়ারী সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা উৎকন্ঠার উদ্রেক করতে পারলেও আস্থার সৃষ্টি করতে পারছে না। বরং এসব হুশিয়ারীকে ভ্রান্ত ঘোষণা হিসাবে দেখছে জনগণ।  

এদিকে শেখ হাসিনার শাসনামলের সফলতা ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন করছে জনগণ। বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে পর্যদুস্ত করার ক্ষেত্রেও সরকারী দল হিসাবে আওয়ামী লীগ সফল বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারের যুগান্তকারী সাফল্যয় ছোট ছোট ব্যর্থতাগুলো ঢেকে গেছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল যেভাবে মূল্যায়ন করুন না কেনো, আমার দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে, সামরিক বাহিনী কর্তৃক বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টমেন্টের বাড়িটি দখলমুক্তকরন।  

বিডিআর বিদ্রোহের সময়ে ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে বসে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ভুমিকা যেমন নানা বিতর্কের অবতারণা করেছিলো, ঠিক তেমনিভাবে আরও নানা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগ উঠে আসতে পারতো যদি না সেনাবাহিনী তড়িঘড়ি ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটি দখলমুক্ত করতে না পারতো। সুশীলদের একটি অংশ গণতন্ত্র-গণতন্ত্র গেলো বলে চিৎকার চেঁচামেচি করলেও  প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র এখনও বেঁচে আছে ওই দখলমুক্তকরণের ফলশ্রুতিতে।

এই দখলমুক্তকরণের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্টকেও রাজনীতির ছত্রছায়া থেকে মুক্ত করা হয়েছে। এর সুবাদে দুর্যোগ, মহামারী, সমস্যা, সংকট মোকাবিলা করে করেই শেখ হাসিনা সরকার টানা ১৪ বছর পার করে ফেলছে। ঘনিয়ে আসছে আগামী নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তুতি চলছে  সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের।  

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে,  সাধারণ মানুষের চোখ গণতন্ত্রের দিকে যতোটা নয়, যতটা শেখ হাসিনার দিকে, তাঁর উন্নয়নের দিকে। বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রধানমন্ত্রীত্ব যে বাংলাদেশের চেহারাটাকে  বদলে দিয়েছে, সেটা তাঁর শত্রুও অস্বীকার করছেন না।   
বিস্ময়কর উন্নয়নের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝেও শেখ হাসিনার প্রতি সৃষ্টি হয়েছে সীমাহীন আস্থা। এক কথায় 
গণতন্ত্রের অপেক্ষা, উন্নয়নকেই   সাধারণ মানুষ বড় করে দেখছে।  মানুষের সামনে শেখ হাসিনার বিকল্প দৃশ্যমান না থাকায় শেখ হাসিনার প্রতিই তাদের ঝোঁক।  

টানা ১৪ বছরের উন্নয়ন শেখ হাসিনাকে শাসনক্ষমতায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। বাস্তবতা বলছে, ব্যক্তি শেখ হাসিনার তুমুল জনপ্রিয়তার কল্যাণেই আওয়ামী লীগ টিকে আছে। আগেই বলেছি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটি দখলমুক্ত করাকেও একটা বড় উন্নয়ন বলে আখ্যায়িত করলে ভুল হবে না। কেননা এই দখলমুক্তির মাধ্যমেই দেশের গণতন্ত্র অনেকটা নিরাপদ জীবনে ফিরে এসেছে। সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র মাঝেমধ্যে আহত হলেও অন্তত হত্যার শিকার হয়নি।  

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষেই সর্বসাধারণ রায় দেয়। মানে আস্থা রাখো। কিন্তু সেই আস্থায় ধস নামার কারণেই যে পরবর্তী দুটি নির্বাচনের চেহারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এটা অবশ্য  বলার অপেক্ষা রাখে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাসহ কিছু সংখ্যক নেতা-মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরই কেবল  নির্বাচনী বৈতরণী পার পাবার নিশ্চয়তা আছে। অধিকাংশের পরাজয়ের সম্ভাবনাটা বেশি বলেই ঝুঁকি নিতে চায় না দলটি। আর এসব শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীদের বিজয় নিশ্চিত করতে গিয়েই গত দুটি নির্বাচনই বিতর্কের মুখে পড়েছে। অথচ ব্যক্তি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে, যেকোনো আসনে যে কারো বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়া আজ আর কঠিন নয়। এরকম জনপ্রিয়তার পরও শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে নানাবিধ নির্বাচনী কৌশল গ্রহণ করতে হচ্ছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি জনমনের সন্দেহ সংশয় কাটানো যাচ্ছে না।  

এদিকে সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগসহ সবগুলো অঙ্গসংগঠনের সম্মেলনের দিকে ঝুঁকছেন। আগামী ২৪  ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল করারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণেই দলীয় স্থবিরতা হয়তো চোখে পড়ছে না। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে নেতৃত্বের ভগ্ন চেহারাই ফুটে উঠেছে।  

আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনমুখী করার ক্ষেত্রে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিরোধী বিএনপির কর্মসূচি পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগকে নির্বাচন উপযোগী করার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা কেন্দ্রীয়  নেতৃত্বেও আমূল পরিবর্তন আনবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান নগর নেতৃত্বের প্রতিও আস্থা রাখতে পারছেন না হাইকমান্ড। শিগগিরই নগরেরও সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।  নতুন নেতৃত্বের আকাঙ্খায় তৃর্ণমূলের কর্মীরা উজ্জীবিত হচ্ছে। সারাদেশেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হচ্ছে। বদলে যাচ্ছে জেলা, মহানগর, উপজেলা, ওয়ার্ড ইউনিয়নের নেতৃত্ব।

সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কি ঘটবে তা একমাত্র শেখ হাসিনাই জানেন। সূত্র মতে নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন মুখ বেছে নেবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও এবার বিরাট পরিবর্তন আসবে। বাদ পড়বেন অনেক নেতাই।  প্রকৃত কর্মীদের বাদ দিয়ে মন্ত্রী নেতাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের প্রাধান্য দেয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সাথে দেখছেন দল প্রধান। সেজন্য বাদ পড়বেন অনেক অনুপ্রবেশকারীও।

যাহোক সরকারের উন্নয়নের প্রভাব আগামী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর পড়বে। সরকারের জনপ্রিয়তার কারণ যদি হয় উন্নয়ন, তাহলে বলতেই হয়, সরকার টানা ক্ষমতায় রয়েছে বলেই তা সম্ভব হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করছেন। যেমন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত যখন বাস, দোকানপাটে পেট্রোলবোমা মারায় লিপ্ত ছিলো, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সর্ববৃহৎ বার্ন হাসপাতালে প্রতিষ্ঠা করেন।  

খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে দেশ যখন দুনীতিতে হ্যাট্রিক করে শেখ হাসিনার নাম তখন বিশ্বের সৎ ও সাহসী প্রধানমন্ত্রীর তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি জামায়াত যখন কল্পনায় মওলানাকে আকাশে দেখে, তখন শেখ হাসিনা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠায়।

খালেদা জিয়া যখন বলেন পদ্মা সেতু সম্ভব নয়, শেখ হাসিনা তখন দৃশ্যমান করেন এবং উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করেন।
খালেদা জিয়ার সরকার যখন বিদ্যুতের খাম্বা তৈরি করে তখন শেখ হাসিনা সরকার রাশিয়ার অর্থায়নে পৃথিবীর সর্ব বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেন।  

বিএনপি জামায়াত সরকার যখন সারের দাবিতে বিদ্রোহ করা কৃষকের মিছিলে গুলি করে হত্যা করে, তখন শেখ হাসিনা সরকার বিনামূল্যে সার বিতরণ করে। বিএনপি জামায়াত যখন ক্ষমতায় থেকে বাংলা ভাই-শায়খ রহমানের আবিষ্কার করে শেখ হাসিনা তখন দেশকে জঙ্গিমুক্ত করে।  

খালেদ জিয়া সন্ত্রাসীদের মদদ দেন, শেখ হাসিনা তখন সাকিব মাশরাফিদের খোঁজেন।  বিএনপি যখন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে এক হয়, শেখ হাসিনার সরকার তখন একেক করে ওদের ফাঁসি কার্যকর করে। খালেদা জিয়া যখন বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সংসদে বসান, তখন শেখ হাসিনা সরকার বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার রাজনীতির পথ বন্ধ করে দেন। খালেদা জিয়া ক্যান্টমেন্টে বসে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ধ্বংস করেন, শেখ হাসিনা তখন ক্যান্টমেন্টকে রাজনীতিমুক্ত করে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে তার সুমহান মর্যাদায় আসীন করেন।  

বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট যখন চিৎকার করে জনগণকে বলে মাগো তোমার একটি ভোটে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে, শেখ হাসিনা তখন বলেন, মাগো তোমার একটি ভোটে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা জনগণ সেটি আজ অনুভব করছে। প্রকৃতপক্ষে লোক দেখানোর গণতন্ত্রে নয়, সাধারণ মানুষের কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে আমূল বদলে যাওয়া দেশের চেহারাটা।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ইতিহাস গবেষক।

news24bd.tv/আআ