নাটোরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়িঘর ভাংচুর 
নাটোরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়িঘর ভাংচুর 

নাটোরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়িঘর ভাংচুর 

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনটি বাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও গাছপালা কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে ২০ দিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ওইসব পরিবারের সদস্যরা।  

জানা যায়, উপজেলার চামটা মৌজার ১০ কাঠা জমির মালিক মোক্তার হোসেন। এ জমিতে তার দুই বড় ভাই ও এক ভাতিজির জামাই ঘর নির্মাণ করে প্রায় ২৫ বছর ধরে বসবাস করছেন।

কিন্তু সম্প্রতি প্রতিবেশী মো. জনাব আলী ওই জমি নিজের বলে দখলের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষই মামলা করে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জনাব আলী লোক নিয়ে ১৩ অক্টোবর দুটি বাড়ি ভাংচুর ও আরেকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
 

এছাড়া প্রায় আম, মেহগণি ও লিচুসহ ৩৮টি গাছ কেটে পুরো ভিটায় কলাগাছ রোপণ করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তারা মোক্তার হোসেনকে পিটিয়ে জখম করেন। ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে তিনটি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।  

সোমবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আজিজুল হকের বসতঘরের টিনের বেড়া ও দরজা-জানালা ভাঙা, ঘরে কোনো আসবাবপত্র নেই। পাশেই তাইজুল ইসলামের দুটি ঘর আগুনে পুড়ে গেছে। বর্তমানে স্ত্রী সন্তানসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।  

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জনাব আলী বলেন, আমি জমিটি মোক্তার হোসেনের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। কিন্তু তারা জমির দখল ছাড়ছেন না। তারা বাড়াবাড়ি করছেন, তাই একটু শিক্ষা দিয়েছি।  

মালিক মোক্তার হোসেন বলেন, আমি জমি বিক্রি করিনি। তারা অন্য কাউকে মোক্তার হোসেন সাজিয়ে জমিটির জাল দলিল করেছেন। আদালতেই সিদ্ধান্ত হবে জমিটি কার। কিন্তু তার আগেই বাড়িঘর ভেঙে ভিটা দখলের অপচেষ্টা করছেন তারা।  

বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানান, জমির বিষয়টি আদালত দেখবেন, তবে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

news24bd.tv/হারুন