একদিকে বক্তব্য দিচ্ছেন কাদের, অন্যদিকে আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
একদিকে বক্তব্য দিচ্ছেন কাদের, অন্যদিকে আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

সংগৃহীত ছবি

একদিকে বক্তব্য দিচ্ছেন কাদের, অন্যদিকে আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

অনলাইন ডেস্ক

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য চলাকালে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার বেলা ১২ টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় টাউন হল মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগের প্রথম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে মঞ্চ উঠে পৌনে ১২টার দিকে উদ্বোধনী বক্তব্য শুরু করেন। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু এমপি সীমাসহ ৮ জনকে ভেতরে প্রবেশ করতে বলায় বিপত্তি বাধে।

এ সময় তারা কিছু সময় গেটে বিক্ষোভ করেন এবং পরে তারা ফিরে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।

পরে স্থানীয় এমপি বাহার ও সীমা সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফারণ ও বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে দলের নেতাকর্মীরা জানান, কুমিল্লার আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খানের সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক বিরোধ চলেছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের। আফজল খানের মৃত্যুর পর তার মেয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা এখন ওই পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শনিবারের সম্মেলনে প্রয়াত আফজল খানের অনুসারীদের উপেক্ষিত করার অভিযোগ করেছেন তারা। তবে বাহারের অনুসারীরা তা নাকচ করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় আফজল খানের অনুসারীরা দাওয়াত না পেলেও সম্মেলনে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেন।

এমপি সীমা অভিযোগ করেন, তিনি শুক্রবার রাতেও দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। নেতারা যেভাবে পরামর্শ দিয়েছেন সেইভাবে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে সম্মেলনে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গেটে যেতেই বলা হয় ৮ জন ঢুকতে পারবে, তাই ফিরে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি মিছিলের সামনে ছিলাম, পেছন থেকে প্রথমে ককটেল বিস্ফোরণ এবং লাঠিচার্জ করা হয়েছে। সব তো পুলিশ দেখেছে। তারা জানার কথা আমাদের ওপর কারা ককটেল মেরেছে।  

এমপি সীমার সঙ্গে সম্মেলনে প্রবেশের সময় বাধাপ্রাপ্ত হন মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক নুর-উর-রহমান মাহমুদ তানিম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আনিসুর রহমান মিঠু, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদার, প্রয়াত আফজল খানেন ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা ও কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরানসহ বেশ কয়েকজন নেতা।

এদিকে, বাহারের অনুসারী সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন বলেন, আমাদের লোকজন কোনো গুলি ছোড়া বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়নি। ঘটনার বিস্তারিত জেনে পরবর্তীতে জানানো হবে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। এ ঘটনায় আমাদের পক্ষ থেকে কোনো গুলি করা হয়নি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

news24bd.tv/রিমু