কাতারে স্টেডিয়াম নির্মাণ শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস হয়েছে: মানবাধিকার সংগঠন
কাতারে স্টেডিয়াম নির্মাণ শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস হয়েছে: মানবাধিকার সংগঠন

কাতারে স্টেডিয়াম নির্মাণে কাজ করছেন শ্রমিকেরা (ছবি: রয়টার্স)

কাতারে স্টেডিয়াম নির্মাণ শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস হয়েছে: মানবাধিকার সংগঠন

অনলাইন ডেস্ক

দরজায় কড়া নাড়ছে কাতার বিশ্বকাপ। এ উপলক্ষে মরুভূমির দেশটির বুকে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়াম। এসব স্টেডিয়াম নির্মাণে অগ্রভাগে কাজ করেছে অভিবাসী শ্রমিকরা। তবে সেই শ্রমিকদের দুঃখের গাঁথা নতুন নয়।

এবার সেই কষ্টের কথা আরেকটু ভারী করেছে মানবাধিকার সংগঠন ইকুইদেম।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংগঠনটি বলছে, কাতারে বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়াম নির্মাণকারী অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার আইন ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। জাতীয়তা দেখে তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হতো। এমনকি তাদের ঠিকমতো বেতনও দেওয়া হতো না।

প্রতিবেদনের ফলাফলে ইকুইদেম জানায়, কাতারে কর্মীদের অনুকূল কর্ম পরিবেশ ছিল না।  

তবে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য কাতার সরকারের কয়েকটি ভালো দিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে ছিল- নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও শালীন জীবনযাত্রা।

এই প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য অনেক অভিবাসী শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি। যেখানে শ্রমিকেরা অভিযোগ করে, নানাভাবে তাদেরকে শোষণ করা হতো।  এমনকি কাজ করানোর জন্য তাদের ভয়ভীতি ও নির্যাতনও করা হতো।

মধ্য দোহা থেকে প্রায় ২০ কি.মি. উত্তরে লুসাইল শহরে তৈরি করা হয়েছে লুসাইল স্টেডিয়াম। ওই স্টেডিয়ামে কাজ করা এক নেপালি শ্রমিকের উদ্ধৃতি দিয়ে ইকুইদেম জানায়, স্টেডিয়াম নির্মাণে যেসব কোম্পানি কাজ করেছে, ফিফা পরিদর্শক দল আসার আগেই শ্রমিকদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হতো।

সাক্ষাৎকারে ওই নেপালি শ্রমিক বলেন, ‘ফিফা পরিদর্শক দলের কাছে শ্রমিকেরা যেন অভিযোগ করতে না পারে, সেজন্য তাদের আড়াল করে রাখা হতো। পরিদর্শক দল আসার আগেই সাইটে কেউ আছে কি না তা দেখতো কোম্পানিগুলো। কেউ লুকিয়ে থাকলে ও ধরা পড়লে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হতো অথবা বেতন কাটা হতো। ’

প্রতিবেদনে ইকুইদেম বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও প্রতিশ্রুতির চেয়ে কম মজুরির বিষয়টি তুলে ধরে। বেশ কয়েকটি স্টেডিয়ামে কাজ করা এক বাংলাদেশি শ্রমিক ইকুইদেমকে বলেন, ‘আমি ওভারটাইম কাজের জন্য বেতন পাইনি। সপ্তাহের সাত দিনই সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করেছি। ’

বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরিকৃত বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করা অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটি একটি স্কিম নেয়। এর মধ্যে ছিল- শ্রমিকদের জন্য ভালো বাসসস্থান, কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পদ্ধতি ও মজুরি। ‘শ্রমিক কল্যাণ মান’ নামক ওই স্কিমের আওতায় এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের ২ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছে।

ইকুইদেমের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কাদরি বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এখনও হাজার হাজার শ্রমিক বেতন ও অন্যান্য পাওনা পাবে। কাতার, ফিফা ও তাদের অংশীদাররা এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করবে। তবুও স্টেডিয়ামগুলো তৈরি করা শ্রমিকদের অর্থ চুরি করা হয়েছে এবং তাদের জীবন নষ্ট করা হয়েছে। ’

‘এ বিষয় থেকে ফিফা চোখ ফেরাতে পারে না। অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য তাদের একটি ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করা উচিত,’ যোগ করেন তিনি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

news24bd.tv/মামুন