বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না : প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না : প্রধানমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

যুবলীগ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী যুবলীগের মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি সমাবেশের উদ্বোধন করেন। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিলো করোনা পরিস্থিতির পর রাজধানীতে প্রথম কোন উন্মুক্ত জনসভা।

 প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ।

তুমুল করতালির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য শুরু হয়। মহাসমাবেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না। যুবকরাই দেশের সমৃদ্ধি আনবে।

 সবাই নিজের গ্রামে যান। কোন জমি যেন অনাবাদি না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। অন্যের কোন জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সে ব্যবস্থা প্রত্যেক যুবলীগ কর্মীকে করতে হবে। আমাদের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে যুবলীগের  অবস্থান আছে (যুবলীগ অংশ নিয়েছে)। যুবকরা থাকলে কাজ করার অনেক সুবিধা। তরুণরাই পারে দেশকে গড়ে তুলতে। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে যুবকদের সম্পৃক্ত করতে যুবলীগ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‌ডিজিটাল বাংলাদেশ সহ উন্নয়নের সকল সুবিধা ভোগ করার পরও কেউ উন্নয়ন চোখে না দেখলে কিছুই বলার নেই। যারা উন্নয়ন না দেখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে, তারা চোখ থাকতেও অন্ধ। যাদের নেতা খুন, মানি লন্ডারিং, অবৈধ সম্পদের মামলার আসামি, তাদের মুখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা মানায় না। খুনিদের লালন পালন করাই বিএনপির চরিত্র। দুর্নীতিগ্রস্ত বিএনপির প্রতি দেশের মানুষের আস্থা নেই।

ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমালোচনায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।  যাদের নেতৃত্বে আজ বিএনপি চলে তারা কারা? খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। একটি টাকাও এতিমরা পায়নি।  সে কারণে খালেদা জিয়ার ১০ বছরের সাজা হয়েছে।

তিনি বলেন, এরপর যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে তো আরো এক ধাপ এগিয়ে। মানি লন্ডারিং মামলায় তারেক জিয়ার ৭ বছরের সাজা হয়েছে। এছাড়া গ্রেনেড হামলা মামলায় সে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত; অস্ত্র মামলার আসামিও। বিএনপির অনেক নেতা মানি লন্ডারিং, লুটপাট, দুর্নীতির কথা বলেন। তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। তাদের মুখে এ ধরণের সমালোচনা মানায় না।  

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন যুব সমাজ গড়ে তুলতে চাই। বেকার যুবক-তরুণদেরকে নানাভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছি।  পদ্মা সেতু নিয়ে যখন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল তখন চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। পরে সেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। অথচ কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কখনো কল্পনাও করতে পারেনি বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হবে। আজকে অনলাইনে কেনাকাটা হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে। আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি।  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের দেশে কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। এ জন্য আমরা গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এইট পাস দিয়ে, মেট্রিক ফেল দিয়ে দেশ চললে উন্নয়ন হয় না। আমরা ক্ষমতায় আসার আগে সরকারে ছিল বিএনপি। ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ছিল বিএনপির সময়। আমরা ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত নিয়েছিলাম। কোভিড টিকা কিনেছি, বিনিয়োগ করেছি, বিমান কিনেছি, পায়রা বন্দর নিজস্ব অর্থায়নে করেছি। এভাবে রিজার্ভ থেকে খরচ হয়েছে। ঘরের টাকা ঘরে থাকছে। দেশের জনগণের উন্নয়নে এই টাকা ব্যবহার করছি। আমাদের এই অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামশ পরশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।  অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।  

news24bd.tv/desk