যুবলীগের মহাসমাবেশে যে যা বললেন
যুবলীগের মহাসমাবেশে যে যা বললেন

সংগৃহীত ছবি

যুবলীগের মহাসমাবেশে যে যা বললেন

অনলাইন ডেস্ক

৫০ বছর পূর্তি ও সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী যুবলীগের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।  কয়েকজনের বক্তব্যের চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হলো : 

শেখ হাসিনা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না।

যুবকরাই দেশের সমৃদ্ধি আনবে। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,  সবাই নিজের গ্রামে যান। কোন জমি যেন অনাবাদি না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। অন্যের কোন জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সে ব্যবস্থা প্রত্যেক যুবলীগ কর্মীকে করতে হবে।
 

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‌ডিজিটাল বাংলাদেশ সহ উন্নয়নের সকল সুবিধা ভোগ করার পরও কেউ উন্নয়ন চোখে না দেখলে কিছুই বলার নেই। যারা উন্নয়ন না দেখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে, তারা চোখ থাকতেও অন্ধ। যাদের নেতা খুন, মানি লন্ডারিং, অবৈধ সম্পদের মামলার আসামি, তাদের মুখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা মানায় না। খুনিদের লালন পালন করাই বিএনপির চরিত্র। দুর্নীতিগ্রস্ত বিএনপির প্রতি দেশের মানুষের আস্থা নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন যুব সমাজ গড়ে তুলতে চাই। বেকার যুবক-তরুণদেরকে নানাভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছি।  পদ্মা সেতু নিয়ে যখন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল তখন চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। পরে সেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। অথচ কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।  

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এইট পাস দিয়ে, মেট্রিক ফেল দিয়ে দেশ চললে উন্নয়ন হয় না। আমরা ক্ষমতায় আসার আগে সরকারে ছিল বিএনপি। ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ছিল বিএনপির সময়। আমরা ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত নিয়েছিলাম। কোভিড টিকা কিনেছি, বিনিয়োগ করেছি, বিমান কিনেছি, পায়রা বন্দর নিজস্ব অর্থায়নে করেছি। এভাবে রিজার্ভ থেকে খরচ হয়েছে। ঘরের টাকা ঘরে থাকছে। দেশের জনগণের উন্নয়নে এই টাকা ব্যবহার করছি। আমাদের এই অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না।

ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, খেলা হবে- দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে, আগুন-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, ভোটচুরির বিরুদ্ধে। আপনারা প্রস্তুত হয়ে যান। কাদের আরও বলেন, খুব মনে পড়ে- শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। সেদিন গর্ভবতী নারীকেও হত্যা করা হয়। আজ বার বার সেই কথা মনে পড়ে। শেখ কামলা, শেখ জামালের মেহেদী রাঙা হাত। আজ তাদের স্মৃতি অবনত মস্তকে স্মরণ করছি। দেশরত্ন শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখবেন আজ আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। সবাই নেত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য অধীর অপেক্ষায় বসে আছেন।  

শেখ ফজলে শামস পরশ

সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, বিএনপির সময় বাংলাদেশকে বলা হতো ‘ব্রিডিং গ্রাউন্ড অব টেরোরিজম’। সেখান থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এখন বলা হচ্ছে ‘নেক্সট এশিয়ান টাইগার’। পরশ বলেন, উন্নয়নের পুরোটাই নেতৃত্বের দূরদর্শিতার ওপর নির্ভর করে। শেখ হাসিনা তার প্রমাণ রেখে চলেছেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বাংলাদেশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রক্ষা করতে পরবেন। এ সময় সরকার প্রধান বিশ্বের সেরা ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম

 আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এরা পাকিস্তানের এজেন্ট। ২১ বার বিএনপি-জামাত শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। কিসের গণতন্ত্র তাদের? খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র হলো মানুষ মারার গণতন্ত্র। এখন তারা হুমকি দেয় ১০ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার পতন ঘটাবে, সন্ত্রাসী তারেককে দেশে আনবে এবং বিএনপি ক্ষমতায় চলে যাবে। আরে, পাগলে কিনা করে, ছাগলে কিনা খায়। ওরা তো পাগল, ওরা খুনি। তারেকের তো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সে তো ভয়েই আসবে না এদেশে। আর খালেদা জিয়াও তো কারাদণ্ডে দণ্ডিত। শেখ হাসিনার মানবিকতায় সে মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু কোন সহানুভূতি দেখানো উচিত নয়।  
তিনি বলেন, পারলে, সাহস থাকলে আইসা নির্বাচন কর। ষড়যন্ত্র করো না। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক সজাগ।

আমির হোসেন আমু

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতিটি নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। এ সময় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আমু বলেন, যারা কয়েকটি জেলায় মহাসমাবেশ করে খুব উৎফুল্ল হয়েছেন, ভাবছেন ধাক্কা দিলেই সরকার পতন হয়ে যাবে, শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে সরিয়ে দেয়া যাবে তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। আপনারা দেখুন আপনাদের বিভাগীয় সম্মেলন থেকে যুবলীগের সম্মেলনে উপস্থিতি বেশি হয়েছে।

মাইনুল হোসেন খান নিখিল
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‌‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মহামারীর সময়ে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থেকেছে। ইউরোপ-আমেরিকার মতো বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছিল, সেই কঠিন সময়ে মায়ানমার থেকে আগত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন মানবতার এই নেত্রী। পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে চোরের জাতিতে পরিণত করতে চেয়েছিলো বিএনপি-জামাত চক্র। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু হওয়ায় সেই জাতি বীরের জাতিতে পরিণত হয়েছে।  
তিনি বলেন, বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার জন্য যুবলীগই যথেষ্ট। আজকের এই সমাবেশে আমরা ঘোষণা দিতে চাই-ঢাকা থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশের যেখানেই বিএনপি জামাত ষড়যন্ত্র করবে, সেই চক্রান্ত গোষ্ঠীর কবর রচনার যাত্রা আজকের এই মহাসমাবেশ থেকে শুরু। ’

news24bd.tv/আজিজ