বিশ্বব্যাপী খাদ্য আমদানি বিল রেকর্ড ছাড়াবে: এফএও
বিশ্বব্যাপী খাদ্য আমদানি বিল রেকর্ড ছাড়াবে: এফএও

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বব্যাপী খাদ্য আমদানি বিল রেকর্ড ছাড়াবে: এফএও

অনলাইন ডেস্ক

শক্তিশালী ডলার এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য আমদানি ব্যয় ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড গড়বে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির ধারণা ২০২২ সালে বিশ্ব খাদ্য আমদানি বিল ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। যা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই চিত্র দেখা গেছে।

যেখানে আমদানি বিল বাড়ার মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে মার্কিন ডলারের বিপরীতে মুদ্রার মূল্যহ্রাস। আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিময়ের প্রধান মুদ্রা ডলার। সেইসাথে ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের কারণে আমদানি বিল রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘বৈশ্বিক খাদ্য আমদানি বিল বৃদ্ধির সিংহভাগই হয়েছে উচ্চ আয়ের দেশগুলির জন্য।

অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলির পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে বলেও বলা হয়েছে। ’

‘উদাহরণস্বরূপ, নিম্ন আয়ের দেশগুলির সামগ্রিক খাদ্য আমদানি বিল প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও ভলিউমের দিক থেকে ১০ শতাংশ সঙ্কুচিত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যা এই দেশগুলির জন্য ক্রমবর্ধমান অ্যাক্সেসিবিলিটি সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। ’

সাব-সাহারান আফ্রিকা, ইতিমধ্যেই অপুষ্টিতে আক্রান্ত। ভলিউম হ্রাস সত্ত্বেও খাদ্য আমদানিতে দেশটি আরও ৪.৮ বিলিয়ন ব্যয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসবকে খাদ্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক লক্ষণ বলে অভিহিত করেছে এফএও।

উল্লেখ্য, বিশ্বের গম বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ এবং ৭৮ শতাংশ সূর্যমুখী তেল রপ্তানি করে থাকে রাশিয়া ও ইউক্রেন। তবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের যুদ্ধ শুরুর পর শস্য রপ্তানিতে ভাটা পড়ে। ফলে বাড়তে থাকে শস্যের দাম। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ১০ মিলিয়ন টনেরও বেশি কৃষি পণ্য ইউক্রেন বন্দর ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। যার ফলে নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে বাজার পরিস্থিতি।

এদিকে ২০২২ সালে বিশ্বে সার আমদানি ৪২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এফএও। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। আর এসব সারের সিংহভাগের যোগান আসে রাশিয়া থেকে। যার মধ্যে নাইট্রোজেন সার অন্যতম। ইতিমধ্যেই এক বছরে সারের দাম বেড়েছে তিনগুণ। যা আগামীতে হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কমে আসতে পারে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন। এমনটাই বলা হয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পক্ষ থেকে।

সূত্র: আল-জাজিরা

news24bd.tv/আমিরুল