২ রাকাত নামাজের বিনিময়ে জান্নাতের প্রত্যাশা
২ রাকাত নামাজের বিনিময়ে জান্নাতের প্রত্যাশা

প্রতীকী ছবি

২ রাকাত নামাজের বিনিময়ে জান্নাতের প্রত্যাশা

আলেমা মুশফিকা আফরা

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামাজের পর জিজ্ঞাসা করেন, হে বেলাল, আমাকে বলো, ইসলাম গ্রহণ করার পর তুমি এমন কী আমল করেছ, তার বিনিময়ে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রত্যাশা করো। জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বেলাল (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রত্যাশা করার মতো কোনো আমল করিনি, তবে আমি দিন-রাত যখনই পবিত্রতা অর্জন করি, সে পবিত্রতার দ্বারা নামাজ আদায় করি। আল্লাহ আমার জন্য নামাজ আদায়ের যতটুকু তাওফিক দিয়েছেন ততটুকু।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৪৯)

উল্লিখিত হাদিসের আলোকে মুহাদ্দিসরা অজু বা গোসলের পর দুই বা তার চেয়ে বেশি রাকাত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব বলেছেন। তারা আরো বলেন, ছোট ছোট আমল যদি নিষ্ঠার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তবে তার মাধ্যমেও আল্লাহর সন্তুষ্টি, পরকালীন মুক্তি ও জান্নাত লাভ করা সম্ভব। যেমন পবিত্র অর্জনের পর দুই রাকাত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বেলাল (রা.) জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেছেন।

দার্শনিক আলেমরা পবিত্রতা অর্জনে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অজু ও গোসলের মাধ্যমে বান্দা বাহ্যিক ও আত্মিক পবিত্রতা অর্জন করে।

আর আল্লাহ পবিত্র বিষয় পছন্দ করেন। সুতরাং পবিত্রতা অর্জনের পর অন্য কোনো কাজ না করে যদি বান্দা নামাজ আদায় করে তবে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ তৈরি হয়। সুতরাং প্রত্যেকের উচিত পবিত্রতা অর্জনের পর অন্য কোনো কাজ না করে কমপক্ষে দুই রাকাত বা নিজের সাধ্যমতো নামাজ আদায় করা উত্তম। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় এই আমলটি করার তাওফিক দিন। আমিন

এই রকম আরও টপিক