সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে

ফের চালু হলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

ফখরুল হাসান পলাশ • দিনাজপুর প্রতিনিধি

ফের চালু হলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় বন্ধ থাকা দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ফের চালু করা হয়েছে। ঈদ-উল-আযহায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পার্বতীপুরে অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আজ (২০ আগস্ট, সোমবার) ৫-৬দিনের জন্য সচল করা হয়েছে।ঈদের ৪র্থ দিন থেকে কেন্দ্রটি আবার বন্ধ হয়ে যাবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (সংরক্ষণ) প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০-২৫ আগস্ট, ৬ দিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু রাখার জন্য বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির স্টপ প্রস্তুতের সময় প্রাপ্ত স্বল্প পরিমাণ কয়লা মজুত করা হচ্ছে। এতে করে ঈদের সময় অন্তত ৬দিন বৃহত্তর দিনাজপুর তথা রংপুর বিভাগের ৮জেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ঈদের আগের দিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হবে এবং কয়লা মজুত সাপেক্ষে ৬দিন চালু রাখার টার্গেট নেয়া হয়েছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা গায়েব হওয়ার পর খনি মুখে স্থাপিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লা সঙ্কটের কারণে গেল ২২ জুলাই মধ্যরাতে বন্ধ করে দেয়া হয়।

উত্তরাঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের সক্ষমতা নেই জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের। সে কারণে লোড ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করতো এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। পুরো গরমের মৌসুমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় অসহায় হয়ে পড়ে পিডিবি।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) রংপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার জানান, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এই চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৫০০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এতে রংপুর বিভাগে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি লো-ভোল্টেজে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে মানুষ। নষ্ট হচ্ছে ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি। চার্জ দিতে না পারার কারণে রাস্তায় চলাচল কমে গেছে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের।

এ কারণে কুরবানি ঈদের সময় এই বিভাগের মানুষদের লোডশেডিংমুক্ত রাখতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অন্তত ৫ দিন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গেল ১৪ জুলাই খনিতে উত্তোলিত কয়লার মধ্যে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে যায়। এরপরই কয়লা সঙ্কটে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

১৯ জুলাই কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও বদলি করা হয়। এ নিয়ে খনির ১৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। যা তদন্ত করছে দুদক।

 

পলাশ/অরিন/নিউজ টোয়েন্টিফোর

মন্তব্য