সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য ওবায়দুল কাদের: শেখ হাসিনা
সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য ওবায়দুল কাদের: শেখ হাসিনা

সংগৃহীত ছবি

সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য ওবায়দুল কাদের: শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তিনি বলেন, ‘এ কাজের জন্য ওবায়দুল কাদের সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তিনি পার্টির সেক্রেটারি হওয়ার পর আমার কাজের চাপ অনেক কমে গেছে। আমার সঙ্গে যারা কাজ করেন, তারা খুবই আন্তরিক বলেই আমরা করতে পারছি।

’ 

শনিবার (২৬ নভেম্বর) সকালে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দক্ষিণ টিউবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।


এ সময় টানেলের জন্য যারা কাজ করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি চীন সরকার ও কর্মকর্তা এবং সেতু ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।

ধন্যবাদ জানান নৌবাহিনীকেও।  

বঙ্গবন্ধু টানেলের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নদীর তলদেশ দিয়ে এ রকম একটা স্থাপনা এই অঞ্চলে এটাই প্রথম। এটা দেখার আশা ছিল আমার। এটা দেখার জন্য মনটাই পড়ে আছে চট্টগ্রামে। এই টানেল শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবে না। গুরুত্ব বাড়াবে চট্টগ্রামের, গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতি। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগের ২১ বছর এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল, তাদের কেউ দেশের উন্নয়ন করেনি। কারণ ক্ষমতা ছিল তাদের ভোগের বস্তু। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ দেশের উন্নয়ন করেনি। ’

আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশ বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। দেশে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া। অন্তত এটুকু বলতে পারি, আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধজয়ী জাতি বিশ্বের কাছে মাথা নত করে চলতে পারে না। আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো। জাতির পিতা আমাদের সেই শিক্ষা দিয়ে গেছেন। জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশকে ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করা হয়। পরে আমরা ক্ষমতায় এসে শিক্ষা-অর্থনীতি সবদিক দিয়ে উন্নয়নের চেষ্টা করি। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন একটা স্বপ্ন নিয়ে। শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তিই ছিল তার লক্ষ্য। এমন একটা জাতি, যাদের মাথা গোজার ঠাঁই নেই, পেটে খাবার নেই, শিক্ষা নেই; সেই জাতির পরিবর্তনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন জাতির পিতা। ’ 

তিনি বলেন, ‘একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ, কোনো রিজার্ভ ছিল না। খাদ্য ছিল না। রেল-ব্রিজ-সেতু সবই বিধ্বস্ত ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিধ্বস্ত ছিল। সেই ধ্বস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে জাতির পিতা দেশকে এগিয়ে নেন। ’ 

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘স্বাধীনতা ও জাতির পিতাকে হত্যাকারীদের ক্ষমতায় বসানোতে দেশের অগ্রগতি থেমে যায়। তাদের কাজই ছিল জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি, জাতির পিতার ভাষণ নিষিদ্ধ করা।  মুক্তিযোদ্ধারা পরিচয় দিতেই ভয় পেত- এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছিল। ’
 
তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণকে ধন্যবাদ দিই। ২০০৮ এর নির্বাচনে জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে বলে আমরা কাজ করতে পারছি। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে মানুষ গ্রহণ করে। ’ 

তিনি বলেন,  ‘আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করেছি। আমরা উন্নয়শীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। যোগাযোগ ব্যবস্থার  ব্যাপক উন্নতি করতে পেরেছি। পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে অনেকে অপবাদ সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু আমরা থেমে যায়নি; বাংলাদেশ যে পারে তা পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি। ’

news24bd.tv/ইস্রাফিল