নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে যা বললেন নেতারা
নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে যা বললেন নেতারা

নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে যা বললেন নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, নির্যাতন এবং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে এ সমাবেশ করে দলটি।

সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেছে। বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ বানচালে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। এই কয়দিনে দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অতীতের নির্বাচনের মতো বিএনপির আন্দোলনকে রুখতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণ জেগে উঠেছে।

সরকার দেয়ালের ভাষা পড়তে জানে না বলে একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নয়াপল্টনে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করবার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। যে জায়গায় অনুমতির কথা বলা হচ্ছে সেখানে বিএনপি সমাবেশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন, জনগণের ভাষা পড়ে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ব্যবস্থা করুন। দায়িত্ব আপনাদের। পথ খোলা রাখছেন না। সেফ এক্সিটের ব্যবস্থা করুন নয়তো পরিণতি ভালো হবে না। জনগণ জেগে উঠেছে।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ বেআইনিভাবে ক্ষমতায় টিকে রাখতে পুলিশ, প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। সমগ্র মানুষ জেগে উঠেছে। ১০ তারিখ বিভাগীয় সমাবেশ সফল করা চ্যালেঞ্জ। দয়া করে সংঘাতের পথে যাবেন না। কাউকে উস্কানি দেবেন না। রাষ্ট্রকে এমন জায়গায় নেবেন না যাতে ফেরার পথ না থাকে।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, নাটুকে মামলা শুরু হয়ে গেছে। জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। এটাকে গুলি করে থামানো যাবে না। সমাবেশের স্থান নিয়ে নাটক বন্ধ করেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ক্ষমতা হারানোর ভয় শুরু হয়ে গেছে। উত্তাল জনস্রোতে সরকার ভেসে যাবে।

দলটির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান বলেন, নিজেরা গাড়ি পুড়িয়ে আবার মামলা দেয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি পুলিশ যাচ্ছে আন্দোলন বন্ধ করতে। অতীতের দুই নির্বাচনের মতো আবারও দমননীতি চালিয়ে নতুন নির্বাচন করতে চায় তারা। এটা মাত্র বিভাগীয় গণসমাবেশ। ১০ তারিখে নয়াপল্টনেই সমাবেশ হবে। সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই, সরে যেতে হবে। গ্রেপ্তার করতে গেলে পাড়ায় মহল্লায় তাদের ঘেরাও করতে হবে।

দলের আরেক সিনিয়র নেতা আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, সরকার পুলিশের ওপর ভর করে ক্ষমতায় আছে। বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চায়। এই কয়দিনে দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে। সাত জনকে মারা হয়েছে। এবার আরও হত্যা করা হলেও বিএনপি রাজপথ ছাড়বে না। দশ তারিখ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চায় বিএনপি, অন্য কোনো পন্থায় ঠেলে দিয়েন না।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, সরকার ১০ই ডিসেম্বরকে ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

এদিকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা না দেয়ার কথা বলা হলেও এখন ঘরে ঘরে হামলা ও গ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে। পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। আগ বাড়িয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের কথা বলা সরকারের অশুভ উদ্দেশ্যের শঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়াপল্টনেই ১০ই ডিসেম্বর সমাবেশের সিদ্ধান্ত বিএনপির চূড়ান্ত। সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীরা এখানেই জড়ো হবে।

বিএনপির সাবেক সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে গণ জোয়ার শুরু হয়েছে। ঢাকার সমাবেশকে ঘিরে ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে। বিএনপির চ্যালেঞ্জ সমাবেশ সফল করা, শান্তিপূর্ণ বিপ্লব সৃষ্টি করা হবে। বাধা বিপত্তি আসবে। জনগণকে সাথে নিয়ে সব বিপত্তি অতিক্রম করতে হবে।

news24bd.tv/FA