শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৬ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট আগে

প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে : ফখরুল

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অসুস্থ নয়, সরকার তাকে জোর করে ছুটিতে পাঠিয়েছে।

প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বুধবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
  
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রহসনের মাধ্যমে অনুগত বিরোধী দল সাজিয়ে প্রকৃতপক্ষে একদলীয় সরকার কায়েম করেছে আওয়ামী লীগ। প্রশাসন ও নিম্ন আদালতকে কুক্ষিগত করে গুম, খুন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী মতের জনগণের জন্য স্বাভাবিক রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো অসম্ভব করে তুলেছে।

‘এই পরিস্থিতিতে সুবিচার পাওয়ার সর্বশেষ ভরসাস্থল উচ্চ আদালতও আজ স্বৈরাচারী সরকারের আক্রমণের শিকারে পরিণত হয়েছে। ''

মির্জা ফখরুল বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় পছন্দ না হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তা রিভিউ করতে পারতো। কিন্তু সরকার তা না করে দেশের প্রবীণ বিচারপতিকে নজিরবিহীনভাবে ছুটি নিতে বাধ্য করার নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এজন্য তিনি আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরুর আগে ২৪ আগস্ট শেষ অফিস করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। অবকাশ চলাকালে ১০ সেপ্টেম্বর তিনি দুই সপ্তাহের জন্য বিদেশ সফরে গেলে তার অবর্তমানে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক হিসেবে বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।   

অবকাশ শেষে প্রথম কার্যদিবসে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগেই নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে এক মাসের ছুটি চেয়ে রবিবার রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন পাঠান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ছুটি মঞ্জুর করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে ওই দিনই প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি রবিবার একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

মন্তব্য