রাশিয়ার তেলের মূল্যসীমা নির্ধারণকে দুর্বল বললেন জেলেনস্কি
রাশিয়ার তেলের মূল্যসীমা নির্ধারণকে দুর্বল বললেন জেলেনস্কি

সংগৃহীত ছবি

রাশিয়ার তেলের মূল্যসীমা নির্ধারণকে দুর্বল বললেন জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়ার সমুদ্রজাত তেলের মূল্যসীমা নির্ধারণ (প্রাইস ক্যাপ) করে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এখন রাশিয়া থেকে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনতে ইউরোপের দেশগুলোকে গুনতে হবে ৬০ ডলার। তবে তেলের দাম তেমন একটা কমানো হয়নি বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এমনকি এর সমালোচনা করেছেন তিনি।

খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে তার পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারা নির্ধারিত মূল্যসীমার সমালোচনা করেছেন এবং একে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন।

গত শুক্রবার ইইউ দ্বারা প্রাইস ক্যাপটি অনুমোদন করা হয়। এটির লক্ষ্য সমুদ্রজাত রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের জন্য দেশগুলোকে ৬০ ডলারের বেশি অর্থ প্রদান বন্ধ করা।

আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার থেকে এই দাম কার্যকর হবে। মূলত তেল বেচে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যেন ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত পশ্চিমা দেশগুলোর।

রাতের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘জ্বালানির বাজারকে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীল করে বিশ্বের সমস্ত দেশের বিপুল ক্ষতি করেছে রাশিয়া। তাদের বিরুদ্ধে জোরদার ব্যবস্থা নিতে হবে, এটা শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। ’

‘ইইউ কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার তেলের যে দাম নির্ধারণ করেছে তা অনেক দুর্বল। তাদের অর্থনীতিকে ক্ষতির করার জন্য যথেষ্ট গুরুত্বর নয় এটি,’ যোগ করেন তিনি।

রাশিয়ার আপত্তি

পশ্চিমাদের দ্বারা তেলের দাম নির্ধারণে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ক্যাপ বাস্তবায়নকারী দেশগুলোতে তেল সরবরাহ না করার কথাও জানিয়েছে ক্রেমলিন।

ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিখাইল উলিয়ানভ শনিবার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে বলেন, ‘ক্যাপ বাস্তবায়নকারী দেশগুলোতে তেল দেওয়া হবে না। এই বছরের শুরু থেকে ইউরোপের দেশগুলোকে রাশিয়ার জ্বালানি ছাড়াই থাকতে হবে। ’

শনিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘রাশিয়া এই মূল্যসীমা মানবে না। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ও প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। ’

কম দামে রাশিয়ার সামুদ্রিক অপরিশোধিত তেল কেনার মূল প্রস্তাব শীর্ষ সাত অর্থনীতির জোট জি-৭-এর দেশগুলোর। তাদের প্রস্তাব ছিল, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম সামগ্রিকভাবে ৫ শতাংশ বা এর বেশি কমিয়ে ইইউকে ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার থেকে ৭০ ডলার দরে তেল কিনতে হবে। পরে নানা বিতর্ক ও আলোচনায় দাম নির্ধারণ করা হয় ৬০ ডলার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ চালায় রাশিয়া। এরপরেই প্রতিবেশী দেশ দুটি যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধের শুরু থেকেই পশ্চিমারা কিয়েভকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এর জেরে রাশিয়ার সমুদ্রজাত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ইইউ; যা চলতি মাসেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই মূল্যসীমা নির্ধারিত হলো।

এই প্রাইস ক্যাপ বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানিকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের আগে রাশিয়ার জ্বালানির প্রধান গ্রাহক ছিল ইউরোপের দেশগুলো। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, ২০২১ সালে রাশিয়ার মোট তেল রপ্তানির অর্ধেকই গিয়েছে ইউরোপে।

যুদ্ধের পর রাশিয়া জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে ঝামেলা শুরু হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে ইউরোপের বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানি। তালিকায় এরপরে রয়েছে নেদারল্যান্ড ও পোল্যান্ড।

ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত

এ দিকে ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রেখেছে রুশ বাহিনী। শুক্রবারও পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র, ২৭টি বিমান হামলা ও ৪৪টি শেল দিয়ে হামলা চালিয়েছে তারা। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা করা হয় বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ।

প্রেসিডেন্ট অফিসের উপপ্রধান কিরিলো টিমোশেঙ্কো বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং চারজন আহত হয়েছে।

পুনরুদ্ধার হওয়া খেরসনের গভর্নর ইয়ারোস্লাভ ইয়ানুশেভিচ বলেন, ‘নিপার নদীর ওপারে রুশ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে আটকে থাকা বেসামরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ সাময়িকভাবে আবার শুরু করা হবে। ’

গত সেপ্টেম্বরে লুহানস্ক ও খারকিভ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে রাশিয়া। তবে শুক্রবার লুহানস্কে তীব্র লড়াই এবং উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে গোলাবর্ষণ হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

news24bd.tv/মামুন