বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন মিরাজ
বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন মিরাজ

বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন মিরাজ

অনলাইন ডেস্ক

নবম ব্যাটার হিসেবে হাসান মাহমুদ যখন সাজঘরে ফেরেন, তখনও জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ৫১ রান। এমন দুরূহ পরিস্থিতি থেকেও বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ উইকেটে মুস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে রেকর্ড জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ১ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন মিরাজ।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লো স্কোরিং ম্যাচে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশ শুরুতে চাপে পড়ে শান্ত-বিজয়কে হারিয়ে।

এরপর লিটন-সাকিবের ব্যাটে ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে একটা সময় ছিল জয়ের পথেই স্বাগতিকরা। কিন্তু হুট করে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-আফিফকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।  তাদের বিদায়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপও হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে।

বাংলাদেশ নবম উইকেট হারায় ১৩৬ রানে।

উইকেটে প্রতিষ্ঠিত কোনো ব্যাটার না থাকায় সে সময় বাংলাদেশের পক্ষে বাজি ধরার লোক ছিল না বললেই চলে। কিন্তু মিরাজ অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে অসম্ভব সম্ভব করেছেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন। ৪৬তম ওভারে দীপক চাহারের শেষ বল গ্যাপে পাঠিয়ে এক রান নিয়েই উল্লাসে মাতেন মিরাজ। সেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা বাংলাদেশও।

মিরাজ বীরত্বের আগে স্বাগতিকদের চোখ রাঙাচ্ছিল হার! সেটা অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ভুলেই। লিটন-সাকিব জয়ের পথ তৈরি করে দিয়ে যাওয়ার পর মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকের দ্রুত বিদায়ে চরম বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর তো মিরাজ দেখালেন তার ব্যাটের দ্যুতি। যেখানে ম্লান ভারতের বোলাররা।

ব্যাটাররা ব্যর্থ হওয়ার পর বোলাররা অবশ্য ভারতকে দারুণ সূচনা এনে দেয়। দীপক চাহার ইনিংসের প্রথম বলেই নাজমুল হোসেন শান্তকে শূন্য রানে বিদায় করে দেন। ২৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৪ রান করে ফেরেন এনামুল হক বিজয়। এরপর সাকিব আল হাসানকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়েন লিটন  দাস। বাংলাদেশ অধিনায়ক ৪১ রান করে ফিরলে ভাঙে এ জুটি। সাকিবও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তার ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।

হাতে পর্যাপ্ত বল থাকায় মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ উইকেটে এসে টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকেন। তবে হাত খুলতে গিয়েই পরপর দুই বলে বিদায় নেন তারা। ১৪ রান করে মাহমুদউল্লাহ লেগ বিফোরের ফাঁদে পা দেওয়ার পরের বলেই ১৮ রান করা মুশফিক বোল্ড হন। এরপর আফিফ হোসেন ৬ রানে ফিরে গেলে বিপদেই পড়ে যায় স্বাগতিকরা। সেই বিপদ আরও বাড়ে স্কোরবোর্ডে আর ২ রান যোগ হতে আরও দুই ব্যাটারকে হারিয়ে।

এরপর সবাই যখন জয়ের আশা ছেড়ে দিলেন, তখনই জ্বলে উঠল মিরাজের ব্যাট। ৪ চার আর ২ ছক্কায় ৩৯ বলে ৩৮ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসটি খেলেন এই বোলিং অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের এই জয়ে মুস্তাফিজের অবদানও কম নয়। তার নামের পাশে থাকা ১০ রান যৎসামান্য বটে, কিন্তু শেষ ব্যাটার হিসেবে তিনি যেভাবে মিরাজকে সঙ্গ দিয়েছেন সেটাও তারিফে কাবিল।

মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের তোপে ভারত থামে ১৮৬ রানে। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশি স্পিন সামলাতে হিমহিম খেয়েছে ভারতীয় ব্যাটাররা। শিখর ধাওয়ানকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে শুভসূচনা এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে ফিরিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপের ভিত ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান।

উইকেটে এসে থিতু হওয়ার চেষ্টা চালান শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। তবে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আইয়ারও। ইবাদতের বলে মারতে গিয়ে উইকেটের পেছনে চলে যায় বল। মুশফিকের গ্লাভসে তালুবন্দি হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৯ বলে ২৪ রান। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে লড়াই করে যান রাহুল। থিতু হয়ে ১৯ রানে ফিরে যান সুন্দর। তবে অন্যপ্রান্তে আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছিলেন রাহুল। কিন্তু সতীর্থদের কাছ থেকে সঙ্গ পাচ্ছিলেন না।

দ্রুতই ফিরছিলেন অপর প্রান্তের ব্যাটাররা। ১৫৩ থেকে ১৫৬ এই ৩ রানের মাঝেই ফিরেছেন ভারতীয় তিন ব্যাটার। এরপর দলীয় ১৭৮ রানের মাথায় ৭০ বলে ৭৩ রান করে ইবাদতের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন রাহুল। এরপর সিরাজকে নিজের চতুর্থ শিকারে পরিণত করে ভারতীয়দের ১৮৬ রানে বেধে ফেলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট শিকার করেছেন সাকিব।

news24bd.tv/সাব্বির