নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস জুগিয়েছিলেন ড. শামসুজ্জোহা
নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস জুগিয়েছিলেন ড. শামসুজ্জোহা

ড. শামসুজ্জোহা

নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস জুগিয়েছিলেন ড. শামসুজ্জোহা

রাজশাহী প্রতিনিধি

নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস জুগিয়েছিল দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (রিডার) ড. শামসুজ্জোহা। তিনি নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করেছিলেন হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণ। ড. জোহার আত্মত্যাগ পাকিস্তান সরকারের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণ উৎসর্গ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তেজিত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পাক-বাহিনী ব্যবস্থা নিতে চাইলে ড. শামসুজ্জোহা বলেন, ‘আহত ছাত্রদের রক্তের স্পর্শে আজ আমি উজ্জীবিত, কোনো ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার আগে সে গুলি আমার বুকে লাগবে।

’ 

তিনি কথা রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর আগে আর কোনো ছাত্রের গায়ে গুলি লাগতে দেননি তিনি। ফলে হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকেই গুলি করে এবং বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করে।

ড. শামসুজ্জোহাকে নিয়ে কথা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা মলয় ভৌমিক এবং  বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গে।

 ড. শামসুজ্জোর আদর্শ ও চেতনা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে বলে জানান তারা।  

ড. শামসুজ্জোর আত্মত্যাগ শিক্ষার্থী ও তরুণদের দেশ প্রেমিক হতে এবং দেশের বিপদে নিঃস্বার্থভাবে নিজিদের বিলিয়ে দিতে  অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।  

ড. শামসুজ্জোহাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে সমাহিত করা হয়। দেশের শিক্ষকরা ড. জোহার মৃত্যু দিবস ১৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন।  

সচেতন মানুষদের প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তরুণরা ড. জোহার আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলবে। দেশকে উন্নয়নে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাবে।
news24bd.tv/ইস্রাফিল