কাতারের নিরাপত্তায় মুগ্ধ বিশ্বকাপ দেখতে আসা নারী দর্শকরা
কাতারের নিরাপত্তায় মুগ্ধ বিশ্বকাপ দেখতে আসা নারী দর্শকরা

সংগৃহীত ছবি

কাতারের নিরাপত্তায় মুগ্ধ বিশ্বকাপ দেখতে আসা নারী দর্শকরা

অনলাইন ডেস্ক

মুসলিম প্রধান দেশ কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজন করায় পশ্চিমাদের কম সমালোচনা শুনতে হয়নি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার। সেই সমালোচনা আরও বাড়ে মাঠে বসে মদ্য পান ও এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করায়। তবে সে সব বিতর্ক দূরে ঠেলে বিশ্বকাপের আয়োজন করে মুনশিয়ানা দেখিয়েছে মধ্য প্রাচ্যের দেশটি।

বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের কথা বিবেচনা করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে কাতার।

ব্যবস্থা করা হয়েছে আধুনিক সব সুবিধা সংবলিত বিলাসবহুল হোটেলের। বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য করা হয়েছে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা। অর্থাৎ প্রিয় দলের খেলা দেখতে কাতারে আসা সমর্থকদের জন্য আয়োজনে কোথাও কোনো খামতি রাখেনি কাতার।

তার সুফলও পাচ্ছে দর্শনার্থীরা।

বিপরীতে কাতারের নিরাপত্তায় মুগ্ধ হয়ে আয়োজনের বাহবা জানাচ্ছেন দর্শক-সমর্থকরা। কাতারের এমন নিরাপত্তায় সবচেয়ে বেশি খুশি বিশ্বকাপ দেখতে আসা নারী দর্শনার্থীরা। ম্যাচ দেখার পাশাপাশি আনন্দে উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা তারা। বিশ্বকাপের অর্ধেক পথ পাড়ি দেয়ার পর সবাই এক বাক্যে স্বীকার করছেন অন্য দেশের দৃষ্টান্ত হতে পারে কাতার।

কাতার জুড়ে বিশ্বকাপ জোয়ার। খেলা শুরু কিংবা শেষ; স্টেডিয়ামের বাইরে দর্শনার্থীদের উৎসব চলছেই। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমার্থক থেকে শুরু করে ইংল্যান্ড কিংবা ইউরোপ-আমেরিকার সমর্থকরাও কাতারের নিরাপত্তায় মুগ্ধ।

রাত কিংবা দিন, সবাই ঘুরে বেড়িয়ে আনন্দ পাচ্ছেন। কেউ বা আবার বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভলেনটিয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন। নিজেরাই কাজের ফাঁকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। চোখে মুখে এতটুকুও ভয়ের ছাপ নেই তাদের। সময় কাটাচ্ছেন আয়েশি মেজাজে।

বিশ্বকাপ দেখতে কাতারে আসা এক ইংল্যান্ড সমর্থক বলেন, ‘আমি কখনই ইউরোপ ছেড়ে বাইরে যাইনি। প্রথমবার এশিয়া মহাদেশে এসেছি। শুরুতে মনে হয়েছিলো এশিয়া নারীদের জন্য নিরাপদ নয়। কিন্তু এখানে এসে আমার সেই ধারণা পরিবর্তন হয়েছে।

অন্য এক সমর্থক বলেন, ‘আমি মনে করি কাতার একটি সুন্দর দেশ। মাঠের বাইরে অ্যালকোহল বন্ধ ভালো সিদ্ধান্ত। যৌন হয়রানির মতো খারাপ কিছু এখন পর্যন্ত আমার চোখে পড়েনি।

স্লোগানে স্লোগানে মুখর থাকে স্টেডিয়াম। জয়ী দলের আনন্দ মিছিল চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। পতাকা হাতে নিজেদের জাতীয় সঙ্গীত চলে তাদের কণ্ঠে। বিশ্বকাপ দেখতে আসা সেরকম আরেক নারী সমর্থক বলেন, ‘এটা মহিলাদের জন্য সত্যিই চমৎকার জায়গা। আমি ফুটবল খুব পছন্দ করি এবং যখন আমি আমার দেশে ছিলাম তখন আমি ভেবেছিলাম যে কাতার শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য নিরাপদ। কিন্তু আমার সেই ধারণা বদলে গেছে।

অন্য এক নারী সমর্থকের মতে, ‘কাতারের স্টেডিয়ামগুলি খুব নিরাপদ, আমি স্টেডিয়ামে কাউকে স্পর্শ করতে দেখিনি। এখনকার মানুষেরা খুব শ্রদ্ধাশীল, পরিবেশ খুব ভাল। ’

উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের জমজমাট লড়াই। যেখানে প্রথম দিন মাঠে নামবে ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ও আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশি সমর্থকদের এই দুই ম্যাচ ঘিরে উৎসাহ উন্মাদনার কমতি নেই।

news24bd.tv/আমিরুল