যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বন্দি বিনিময়
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বন্দি বিনিময়

গ্রিনার ও বাউত (ছবি: সংগৃহীত)

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বন্দি বিনিময়

অনলাইন ডেস্ক

বন্দি বিনিময় করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার। বাস্কেটবল খেলোয়াড় ব্রিটনি গ্রিনারকে ছেড়ে দিয়েছে রাশিয়া। এর পরিবর্তে ১২ বছর ধরে মার্কিন কারাগারে থাকা রুশ অস্ত্র ব্যবসায়ী ভিক্টর বাউতকে মুক্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর বিবিসির।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘গ্রিনার নিরাপদে আছেন। উড়োজাহাজ যোগে তিনি আরব আমিরাতে পৌঁছেছেন। ’

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গ্রিনার ভালো আছেন, এ খবরে আমি আনন্দিত...পুরোনো অবস্থানে ফিরতে তার সময়ের প্রয়োজন। ’

অন্যদিকে ‘মৃত্যুর সওদাগর’ নামে পরিচিত রুশ অস্ত্র ব্যবসায়ী বাউত মস্কোতে পৌঁছেছেন।

রাশিয়ায় পৌঁছে বিমানবন্দরে দেশটির একটি সম্প্রচার মাধ্যমকে বাউত বলেন, ‘মধ্য রাতে তারা আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে আমার জিনিসগুলোকে গুছিয়ে নিতে বলেছিল। শুধুমাত্র এ কথায় বলেছে তারা। ’

উড়োজাহাজ থেকে নামার পর বাউতকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান তার মা ও স্ত্রী।

বিবিসি বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে মস্কো বিমানবন্দর থেকে গ্রিনারকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে গাঁজার তেল রাখার অভিযোগ আনা হয়। পরে গত অগাস্টে মাদক মামলায় গ্রিনারকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেয় রাশিয়ার একটি আদালত। আর গত মাসে তাকে একটি কুখ্যাত বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়।

বহুদিন ধরে বাউতকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির দাবি করে আসছিল মস্কো। আর গত জুলাইয়ে রাশিয়াকে বাউতের বিনিময়ে দুই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব পাঠায় বাইডেন প্রশাসন। তবে একজনকে মুক্তির কথা জানায় রাশিয়া।

বন্দি বিনিময়ের জন্য ওয়াশিংটন ও মস্কো থেকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে বাউত এবং গ্রিনারকে আবুধাবি বিমানবন্দরে আনা হয়। এরপরেই তারা নিজ নিজ দেশে ফেরার উড়োজাহাজে উঠে।

বাউতের দেশে ফেরার পর এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, রাশিয়ান নাগরিক তার মাতৃভূমিতে ফিরেছে।

এই বাস্কেটবল খেলোয়াড়কে ফেরানোয় বাইডেন প্রশাসনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন গ্রিনারের স্ত্রী চেরেলে। ওভালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে শুধু আবেগে অভিভূত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। ’

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার এ বন্দি বিনিময়ে প্রধান মধ্যস্তকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এ ছাড়া আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাইয়ানও ভূমিকা রাখেন।

প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বন্দি বিনিময়েও মূখ্য ভূমিকা পালন করেন সালমান।

তবে মধ্যস্তকারীর বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। প্রেস সেক্রেটারি কারিন জিন-পিয়েরে বলেছেন, বন্দি বিনিময়ে কোনো মধ্যস্তকারী ছিল না। এই বিষয়টি নিয়ে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াই আলোচনা করেছিল।

news24bd.tv/মামুন