মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ৩৪ মিনিট আগে

থেমে নেই বান্দরবানে পাহাড় কাটা

বান্দরবান প্রতিনিধি

থেমে নেই বান্দরবানে পাহাড় কাটা

বান্দরবানে পাহাড় ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়লেও থামছে না পাহাড় কাটা। বান্দরবানের লেমুঝিরি পাড়ায় মৎস্য খামারের রাস্তা নির্মাণের নামে স্কেভেটর দিয়ে বিশাল পাহাড় সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জামাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে। আর তার দেখাদেখি আশপাশের আরো কয়েকটি স্থানে স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার মহোৎসবে মেতেছে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং, ফাঁসিয়াখালী, সরই, আজিজনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ইট তৈরির জন্য নির্বিচারে পাহাড় কেটে চলছে জসিম উদ্দিন, ফখরুদ্দিন, মো. আবুল খায়ের, ইয়াছির আরাফাত, গিয়াস উদ্দিনসহ অনেকে।

এদিকে পাহাড় কাটার খবরে পেয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-এ-জান্নাত রুমির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে তিন ইটভাটা মালিককে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারপরেও থেমে নেই পাহাড় কাটা। এখনো ৮/১০টি স্কেভটার দিয়ে ফাইতং এলাকায় পাহাড় কাটা চলছেই। জেলা শহরের কালাঘাটায় বাহাদুর নগরে পৌরসভার চলছে পাহাড় কাটার কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্কেভেটর দিয়ে জেলা শহরের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কাটা হচ্ছে। বাহাদুর নগর ও আশেপাশ বসতি স্থাপনের জন্য নগরের চারপাশে পাহাড় কেটে জায়গা সমান করার রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছেন প্রভাবশালীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড় কেটে ৫টি ট্রাকের মাধ্যমে পাহাড়ের মাটি জলাশয় এবং নিচু জমি ভরাটের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতি ট্রাক মাটি ১৫-১৬শ' টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কালাঘাটা নতুন ব্রিজ এলাকায় এবং বড়ুয়াটেক এলাকায়ও কয়েকটি স্থানে পাহাড় কাটা হচ্ছে শ্রমিক দিয়ে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ২১ মে পাহাড় কাটতে গিয়ে পাহাড় ধসে রাইক্ষ্যংছড়িতে ৫ জন, পাহাড় ধসে লামায় ৩ জন এবং জেলা শহরে ১ জনের মৃত্যু হয়। গত বছর এ লেমুঝিরি এলাকায় পাহাড় ধসে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম জানান, পাহাড় কাটার কোনো অনুমতি নেই। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


(নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল)

মন্তব্য