যে কারণে রেওয়াজ ভাঙলেন মেসিরা

সংগৃহীত ছবি

যে কারণে রেওয়াজ ভাঙলেন মেসিরা

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপ জেতার পর দেশে ফিরে রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ পুরনো রেওয়াজই বটে। অনেক সময় তো বিশ্বকাপে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেললেই ডাক পড়ে রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে। কাতারে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসিদের ডাক এসেছিল প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজের কাছ থেকে। তবে ফার্নান্দেজের কার্যালয় থেকে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) নিমন্ত্রণ করা হলেও মেসিরা সেই নিমন্ত্রণ রীতিমতো প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ভেঙেছেন দীর্ঘদিনের রেওয়াজ।

বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফেরার পর আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা উৎসব করেছেন দেশের আপামর জনগণের সঙ্গে। ছাদখোলা বাসে প্যারেড চলেছে কয়েকঘণ্টা। কিন্তু মেসি-মার্টিনেজরা এরপর হাতে সময় থাকা সত্ত্বেও দেখা করেননি আলবার্তো ফার্নান্দেজের সঙ্গে।

নেয়নি সংবর্ধনাও। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা দল প্রেসিডেন্ট ভবনে গিয়েছিল। সেখানে তাদের দেওয়া হয় সংবর্ধনা। এবারও সেরকমই হওয়ার কথা ছিল।

তবে আর্জেন্টিনার শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ‘বুয়েনস আয়ার্স টাইমস’ জানিয়েছে, রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার শঙ্কা থেকেই নাকি আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে না গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অথচ প্রেসিডেন্ট ভবন সব আয়োজনই করে রেখেছিল। ভবনের বিখ্যাত ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জনতার সামনে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার আয়োজন ছিল। কিন্তু সব আয়োজন শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছে মেসিরা সেখানে যেতে না চাওয়ায়।

তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না প্রেসিডেন্টের। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা ছিল কাসা রোসাদার ব্যালকনিতে তার সঙ্গে কেবল ফুটবলার আর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা থাকবেন। সেখানে রাজনৈতিক নেতারা, এমনকি সরকারি কর্মকর্তাদেরও আমন্ত্রণ না জানানোর নির্দেশ তিনি দিয়ে রেখেছিলেন।

এক সাক্ষাৎকারে ফার্নান্দেজ নিজেও বলেছেন সে কথা, ‘আমি নিতান্তই একজন ফুটবল-ভক্ত। আমি কখনোই চাই না, কেউ ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতি মেশাক। আমি ফুটবল ফুটবলের জায়গায়, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় রাখতেই পছন্দ করি। ’ তবে বিশ্বকাপ জেতা বীররা দেখা না করলেও, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট অবশ্য দলের সাফল্যতেই খুশি। তিনি আরও গর্বিত তার সময় আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, বিশ্বকাপসহ তিনটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতায়। ফার্নান্দেজ নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট অব থ্রি কাপ’ বলছেন বেশ গর্ব নিয়েই।

news24bd.tv/সাব্বির

পাঠকপ্রিয়