মেট্রোরেলের পুরোটাই বসুন্ধরা সিমেন্টে নির্মিত
মেট্রোরেলের পুরোটাই বসুন্ধরা সিমেন্টে নির্মিত

সংগৃহীত ছবি

মেট্রোরেলের পুরোটাই বসুন্ধরা সিমেন্টে নির্মিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

মেট্রোরেল যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর পদ্মাসেতুর পর আরেক অর্জনের সাক্ষী হয়ে রইলো বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব। পুরো মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা পরিবার বসুন্ধরা গ্রুপের উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বসুন্ধরা সিমেন্ট। এই মেগাপ্রকল্পের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১.৭৩ কিলোমিটার পথ বুধবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, প্রকল্পটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন গুণে-মানে সমৃদ্ধ বসুন্ধরা সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্তরের গুণগত মান পরীক্ষায় মেট্রোরেল প্রকল্প উত্তীর্ণ হলে ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড বসুন্ধরা সিমেন্টের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে।

এ চুক্তির আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১১.৭৩ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ নির্মাণে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এক লাখ ৯১ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টন সিমেন্ট ব্যবহার করে, যার পুরোটাই সরবরাহ করে বসুন্ধরা সিমেন্ট।

বসুন্ধরা সিমেন্টের গুণে ও মানে সন্তুষ্ট হয়ে এরপর ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি মেট্রোরেল প্রকল্পে বসুন্ধরা সিমেন্ট সরবরাহে দ্বিতীয় চুক্তি সই করা হয়।

এই চুক্তির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি ও সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট ভেঞ্চার উত্তরার দিয়াবাড়ী ডিপোতে প্রায় ৫১ হাজার ৯৮৮ মেট্রিক টন সিমেন্ট ব্যবহার করে। এখানেও ব্যবহার করা পুরো সিমেন্ট সরবরাহ করে বসুন্ধরা সিমেন্ট।

এরপর ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর সুমিতোমো মিত্সুই কোম্পানি লিমিটেড ও ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট ভেঞ্চার বসুন্ধরা সিমেন্টের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪.৯২২ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ নির্মাণে প্রয়োজনীয় সিমেন্ট সরবরাহ করে বসুন্ধরা সিমেন্ট। বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের এ অংশে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৫০৬ মেট্রিক টন সিমেন্ট সরবরাহ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত মেট্রো রেলপথ নির্মাণে প্রয়োজনীয় সিমেন্ট সরবরাহে বসুন্ধরা সিমেন্টের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এই চুক্তির আওতায় বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান টেক্কেন-আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও ওয়াইবিসির সমন্বয়ে জয়েন্ট ভেঞ্চার ৩.১৯৫ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সিমেন্ট বসুন্ধরা সিমেন্ট থেকে নেবে। বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৮ হাজার ১৬৩ মেট্রিক টন সিমেন্ট সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রথমে মেট্রোরেল উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এতে মেট্রো রেলের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ২১ কিলোমিটারের মতো। মেট্রোরেলে মোট স্টেশন ১৭টি। এসব নির্মাণে পুরোটাই ব্যবহার করা হচ্ছে বসুন্ধরা সিমেন্ট।

বসুন্ধরা সিমেন্টের হেড অব কর্পোরেট (সেলস) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, মেট্রোরেলে সিমেন্ট সরবরাহ প্রক্রিয়া এতটা সহজ ছিল না। বিভিন্ন স্তরের মান পরীক্ষার বিষয় ছিল। আর মান পরীক্ষায় ছিল জিরো কম্প্রোমাইজ। এ মান পরীক্ষায় একমাত্র বসুন্ধরা সিমেন্ট পাস করে। তার পর থেকে শুধু আমরাই মেট্রোরেলে সিমেন্ট সরবরাহ করছি।

তিনি বলেন, মেট্রোরেলে প্রতিদিন যে পরিমাণ মানসম্পন্ন সিমেন্টের প্রয়োজন হয় তা উৎপাদন ও সরবরাহ করার সক্ষমতা একমাত্র বসুন্ধরা সিমেন্টেরই আছে। আশা করছি, প্রকল্পের এক্সটেনশন অংশ মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বসুন্ধরা সিমেন্টই ব্যবহার করা হবে।

বসুন্ধরা সিমেন্টের হেড অব টেকনিক্যাল সাপোর্ট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানই মেট্রোরেলে সিমেন্ট সরবরাহ করতে চেয়েছিল, কিন্তু মান পরীক্ষায় শুধু বসুন্ধরা টেকে।

তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা সিমেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উৎপাদনের ক্ষেত্রে কখনো কোয়ালিটি ফল করে না। আমরা সব সময়ই একই মানের মানসম্মত সিমেন্ট উৎপাদন করতে পারি। উৎপাদনের এই ক্ষমতা মেট্রোরেলের সিমেন্ট সরবরাহের কাজ পেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

প্রসঙ্গত, বসুন্ধরা সিমেন্ট মেট্রোরেল ছাড়াও সরকারের অন্যান্য মেগাপ্রকল্পে উল্লেখযোগ্য হারে ব্যবহার করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, পদ্মা সেতু নদী প্রশিক্ষণ প্রকল্প, ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (ফেজ-১), ফার্স্ট  ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (ফেজ-২ ও ৩), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প, আশুগঞ্জ নদীবন্দর—সরাইল-দরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়ক চার লেন জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প হিসেবে উন্নয়ন (৫০.৫৮ কিলোমিটার), পায়রা সেতু প্রকল্প, বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার-১ (এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প), চায়না কনস্ট্রাকশন সেভেনথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন কর্পোরেশন লিমিটেড, উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প-২ (সিইআইপি-২), অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, বৃহত্তর ঢাকা টেকসই নগর পরিবহন প্রকল্প (বিআরটি প্রকল্প), মেঘনাঘাটে একটি সম্মিলিত সাইকেল পাওয়ার স্টেশন, আশুগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, অ্যামিগো বাংলাদেশ লিমিটেড প্রকল্প, খুলনা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এবং কেওয়াসার জলাধার, সপ্তম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, কালনা ব্রিজ, দ্বিতীয় রূপসা রেলওয়ে সেতু প্রকল্প প্রভৃতি।

news24bd.tv/FA