পুত্রকে বিষপান করিয়ে মৃত্যুর পর মারা গেলেন বাবাও
পুত্রকে বিষপান করিয়ে মৃত্যুর পর মারা গেলেন বাবাও

প্রতীকী ছবি

স্ত্রীর ওপর অভিমান 

পুত্রকে বিষপান করিয়ে মৃত্যুর পর মারা গেলেন বাবাও

অনলাইন ডেস্ক

স্ত্রীর ওপর অভিমান করে বিষপান করায় শিশু পুত্র আয়ান শেখের (২) মৃত্যুর পর মারা গেলেন স্বামী হান্নান শেখ (৪৫)। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে মারা যান হান্নান শেখ। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার মেছড়দিয়া গ্রামের আকুব্বর শেখের বড় ছেলে হান্নান শেখ পেশায় একজন কৃষক।

তিন বছর আগে উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের নিখরিয়া গ্রামের সুফিয়া বেগমের (৩৪) সঙ্গে বিয়ে হয় তার। এরপর তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দুই মাস আগে সুফিয়া দুই বছরের শিশু সন্তান ও স্বামী হান্নানকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যায়।

এ অবস্থায় শিশু সন্তান নিয়ে হান্নান পড়েন বিপাকে। বাচ্চাকে কেন্দ্র করে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। হান্নান সুফিয়াকে ফিরিয়ে আনতে একাধিকবার সুফিয়ার বাবার বাড়ি গিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হন।

এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে হান্নান শেখ তার সন্তানকে কীটনাশক খাইয়ে পরে নিজেও তা পান করেন। বিষয়টি আশেপাশের লোকজন বুঝতে পেরে শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে বাবা ও ছেলেকে অচেতন অবস্থায় বাড়ি থেকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করেন। সেখানে পাঁচদিন চিকিৎসা চলার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

সকালে ঢাকা নেওয়ার পথে শিশু আয়ান মারা যায়। হান্নানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বুধবার সকালে মারা যান হান্নান শেখ।

মধুখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মৃত হান্নানের ভাই জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) বাদী হয়ে মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন।  

তিনি বলেন, বাবা ও ছেলের মৃতদেহ ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।  

news24bd.tv/কামরুল