সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৪ মিনিট আগে

চাকরির বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আসছে রোবট

নিউজ টোয়েন্টিফোর অনলাইন

চাকরির বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আসছে রোবট

আগামী চার বছরের মধ্যেই সাড়ে সাত কোটি মানুষের কাজের জায়গা দখলে নেবে যন্ত্রমানব। অর্থাৎ, রোবটের কারণে ২০২২ সাল নাগাদ কাজ হারাবে এই বিপুল পরিমান মানুষ। বিষয়টা উদ্বেগজনক হলেও আশার বাণী শুনিয়েছেন গবেষকরা। জানিয়েছেন, সাড়ে ৭ কোটি মানুষ কাজ হারালেও একই সময়ে নতুন প্রযুক্তির কারণে তৈরি হবে ১৩ কোটি ৩০ লাখ নতুন কাজ। যদিও নতুন কাজ সৃষ্টির ব্যাপারে একমত নন অনেকেই।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক নীতি গবেষণা কেন্দ্র 'বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম' তাদের এক রিপোর্টে এই ভবিষ্যদ্বাণী করছে। রিপোর্টে বলা হচ্ছে, প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মানুষের সময় বেঁচে যাবে অনেক, ঘরে-বাইরে অনেক কাজ রোবট করে দেবে। আর সেটা মানুষের অন্য কাজ করার সুযোগ করে দেবে। নতুন নতুন কাজ তৈরি হবে।

তবে সমালোচকরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, যেসব কাজ চলে যাবে, তার জায়গায় যে নতুন চাকুরি তৈরি হবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই বিষয়টা চাকরি বাজারে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ধনীরা তাদের কাজ সহজে, দ্রুততম সময়ে ও অল্প খরচে করিয়ে নিতে রোবটের পেছনে অর্থ ব্যয় করবে। ফলে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। আর নতুন কাজ সৃষ্টির মাধ্যমে সহজেই সেই শূন্যতা পূরণ হয়ে যাবে- তা মনে করার কোন কারণ নেই। কারণ, নতুন কাজ আসলে সেখানেও রোবটের রাজত্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের রিপোর্টটিতে বলা হচ্ছে, রোবট এবং এলগরিদমের কারণে এখনকার বিভিন্ন কাজের উৎপাদনশীলতা অনেকগুন বেড়ে যাবে। তবে এর ফলে নতুন কাজ তৈরিরও সুযোগ হবে। ডাটা এনালিস্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপার, সোশ্যাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট- এ ধরণের কাজ বাড়বে অনেক বেশি। শিক্ষক বা কাস্টমার সার্ভিস কর্মীর মতো কাজ, যাতে কিনা অনেক সুস্পষ্ট মানবিক গুণাবলীর দরকার হয়, সেরকম কাজও অনেক তৈরি হবে।

এদিকে বছর দুই আগে এক সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিবেক ওয়াদধা বলেছিলেন, আগামীর বিশ্বটা হবে রোবটের খেলাঘর। সুপার ইন্টেলিজেন্ট রোবট নিয়ন্ত্রন করবে সব কিছু। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিবেক বলেন, আগামী পাঁচ ছয় বছরের মধ্যেই রোবট রাস্তায় আসবে। গাড়ি চালাতে তখন ড্রাইভারের প্রয়োজন হবে না, ড্রাইভিং নিয়ন্ত্রন করবে রোবট।

এখানেই শেষ নয়। রোবট নিয়ে আরেকটি আতঙ্কের জায়গা দেখিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেটা হলো রোবটের কারণে পারিবারিক সম্পর্কগুলো ভেঙে যাওয়া। মানুষ রোবটের সঙ্গে প্রেম করবে, এমনকি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করবে। বিয়ের মতো দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার সম্পর্ককে অনেকেই দূরে সরিয়ে দেবে। 

আর এমন চিন্তা-ভাবনা যে হচ্ছে তা ইদানিংকালের নানা সিনেমাতেও ফুটে উঠছে। হলিউডের অনেক সিনেমাতে মানুষের সঙ্গে রোবটের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক হতে দেখা গেছে। যেমন ‘হার (Her)’ এবং ‘এক্স মেশিনা’ নামের ছবি দুটিতে প্রেম হয়েছে মানুষে-রোবটে। যৌন সম্পর্কেও জড়িয়েছে তারা। এবার সিনেমার এসব কল্পকাহিনী হয়তো সত্য হতে চলেছে! ইতোমধ্যে বাজারে সিলিকন পুতুল মিলছে যাকে সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করছে অনেক চীনা নারী-পুরুষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারেই মিলছে এসব পুতুল। এমনকি পুতুলের যৌনপল্লীও তৈরি হয়ে গেছে। এগুলো অবশ্য রোবট নয়, অর্থাৎ এতে কোন বুদ্ধিমত্তা নেই। তবে শীঘ্রই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আবেগ-অনুভূতিসহ এমন পুতুল বাজারে মিলবে না তা বলার সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক মার্কিন বিশেষজ্ঞ ডেভিড লেভি তার ‘লাভ অ্যান্ড সেক্স উইদ রোবটস’ বইতে লিখেছেন ২০৫০ সালের মধ্যেই বিয়ে করার উপযোগী রোবট তৈরি করা সম্ভব হবে। তার কথার ওপর ভিত্তি করে বলা যেতে পারে, যৌনতা বিষয়ক নতুন একটি বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী। বিষয়টা মানবসভ্যতার জন্য হুমকি কিনা তা আসলে সময়ই বলে দেবে।

২০০৯ সালে ‘রিয়েল টাচ’ নামের একটি ডিভাইস বাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। যন্ত্রটির মাধ্যমে মানুষের সংবেদনশীলতাকে জাগিয়ে তোলা যায়। এটি এক ধরনের ভার্চুয়াল যন্ত্র হলেও এর মাধ্যমে মানুষ সত্যিকারের অনুভূতি পেতে পারে। তবে যন্ত্রটির বিরুদ্ধে স্বত্ব সম্পর্কিত এক মামলার কারণে ২০১৩ সালে এটি বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়।

মন্তব্য