কষ্ট পেলে গাছ কাঁদে, আকুতি জানায় সাহায্যের....

সংগৃহীত ছবি

গবেষণার ফল 

কষ্ট পেলে গাছ কাঁদে, আকুতি জানায় সাহায্যের....

অনলাইন ডেস্ক

আপনি জানেন কি, গাছের আঘাত লাগলে, গাছ কষ্টে থাকলে, ওরাও চিৎকার করে কাঁদে? সাহায্যের জন্য আকুতি জানায়? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে অবাক করা এ তথ্য।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের পরীক্ষালব্ধ ফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘সেল’ পত্রিকায়৷ সেখানেই গবেষকের রেকর্ড করেছেন গাছেদের কান্নার সেই শব্দ। গাছেদের কান্না রেকর্ড করার দৃষ্টান্ত বিজ্ঞানে এই প্রথম।

টমেটো ও তামাক গাছের ওপরে নিজেদের পরীক্ষা চালিয়েছেন ওই গবেষকেরা।

সেখানে দেখা গেছে, কোনও সুস্থ গাছ সাধারণত ঘণ্টায় এক বার ‘ক্লিক’ বা ‘পপ’ জাতীয় শব্দ করে। তবে পুরোটাই আলট্রাসোনিক সাউন্ড। তাই মানুষের কান তা শুনতে পায় না সেসব শব্দ। গাছেদের করা শব্দ রেকর্ড করার জন্যে গবেষকগন বিশেষ ধরনের আলট্রাসোনিক সাউন্ড রেকর্ডার ব্যবহার করেছেন৷ কিন্তু, এখানেই শেষ নয়।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, গাছগুলিকে টানা ২ দিন পানি না দিয়ে রেখে দেওয়ার পর অথবা তার কোনও ডাল ছেঁটে ফেলা হলে দেখা গেছে গাছটি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ বার ‘ক্লিক’ বা ‘পপ’ জাতীয় শব্দ করেছে। সবচেয়ে বেশি শব্দ করেছে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে। তারপর গাছটি আস্তে আস্তে মরে যেতে শুরু করেছে। এর অর্থ কী?

গবেষকদের মতে, এই ঘন ঘন ‘ক্লিক’ বা ‘পপ’ জাতীয় শব্দই আসলে গাছের কান্না। এর মাধ্যমে গাছ বোঝাতে চায়, সে অসুস্থ, বা আহত,বা সে কষ্টে রয়েছে। কিন্তু, কাকে বোঝাতে চায়?

গবেষকেরা বলছেন, গাছের এই শব্দ মানুষের উঁচু স্বরে কথা বলার মতো। হাঁকডাক করার মতো। গাছ থেকে ৩-৫ মিটার দূর পর্যন্তও এই শব্দ পৌঁছে যায়। গাছের এই ধরনের শব্দের কম্পাঙ্ক থাকে ৪০ থেকে ৮০ kHz-এর মধ্যে, যা মানুষের শ্রবণ ক্ষমতার বাইরে। তাই মানুষ এই শব্দ শুনতে পায় না। ঠিক যে কারণে মানুষ বাদুরের ডাক শুনতে পায় না। ২০ kHz নীচের কম্পাঙ্কের শব্দই শুনতে পায় মানুষ। কিন্তু, মানুষ ছাড়া, গাছেরা কাদের জানান দিতে চায়, যে তারা অসুস্থ?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এভাবে গাছের শব্দ আবিষ্কার হওয়া নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানের এক বিশাল বড় পদক্ষেপ। কিন্তু, এই শব্দ যে অন্য কোনও প্রাণি বা উদ্ভিদের সঙ্গে কথোপকথন করার জন্যই তৈরি হচ্ছে এমনটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁরা বলছেন, হতেই পারে, প্রকৃতি এমন ভাবেই বিবর্তিত হয়েছে, যাতে গাছেদের এই কান্না অন্য কোনও প্রাণি বা উদ্ভিদের কাছে পৌঁছচ্ছে।

যেমন, বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মানুষ গাছেদের এই আওয়াজ শুনতে না পেলেও মথ, ছোট ইঁদুরের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণি এই কম্পাঙ্কের আলট্রাসনিক শব্দ শুনতে সক্ষম। তাই এবার বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখছেন, গাছেরা সমস্যায় থাকলে যে ধরনের শব্দ তৈরি করে, তা শুনে নিকটবর্তী কোনও প্রাণি বা উদ্ভিদের মধ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায় কি না।

বিজ্ঞানীদের মতে, আসলে গাছেরা এই ধরনের শব্দ করে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতেই অন্য প্রাণি বা প্রতিবেশী উদ্ভিদদের এই বার্তা দিতে চায়, সতর্ক করতে চায় অসুস্থ, মৃতপ্রায় গাছ।