রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৯ মিনিট আগে

নীল তিমির কবল থেকে বেঁচে ফেরার গল্প (ভিডিও)

আশিকুর রহমান শ্রাবন

নীল তিমির কবল থেকে বেঁচে ফেরার গল্প (ভিডিও)

ইংরেজিতে ব্লু হোয়েল। বাংলায় নীল তিমি। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম। ইন্টারনেটভিত্তিক প্রাণঘাতি গেম ব্লু হোয়েল এখন কারও কাছে আর অপরিচিত নয়। রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ছাড়িয়ে এই গেমের প্রভাব এখন বাংলাদেশে। ঢাকার সেন্ট্রাল রোডের স্কুলপড়ুয়া মেধাবী এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনার পর এ নিয়ে দেশের মধ্যে শুরু হয় তোলপাড়। এরপরই শুরু হয় অনুসন্ধান। সামনে আসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্লু হোয়েল গেমে আসক্ত বেশ কয়েকজনের খবর। পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী থেকে গৃহবধূ পর্যন্ত। 

নিউজ টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানী প্রোগ্রাম 'টিম আন্ডারকাভার'এর ২৭ তম পর্বটি করা হয়েছে ব্লু হোয়েল বা নীল তিমি’র আত্মঘাতী জগতের বাসিন্দাদের নিয়ে। নিউজ টোয়েন্টিফোর টিম পেয়েছে এমন নারীর সন্ধান যিনি কিনা এই গেম খেলতে গিয়ে ভাগ্যক্রমে ফিরে এসেছেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে। 

গেম খেলতে গিয়ে মৃত্যু! কিন্তু কেন? কী সেই গেম?  এর উত্তর এখন অনেকেই জানেন। এই ডার্ক ওয়েব ভিত্তিক আত্মঘাতী ভিডিও গেমটি  মোটেও ইন্টারনেটভিত্তিক অন্যান্য সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন কিংবা নিছক গেম নয়। কিউরেটরের নির্দেশে এই গেমে আসক্তরা ক্রমেই এগিয়ে যায় মৃত্যুর দিকে। ৫০ ধাপে নিশ্চিত আত্মহনন। এক বা একাধিক কিউরেটর দ্বারা পরিচালিত এই গেমের শেষ লেভেলের টাস্কগুলো খুবই ভয়ংকর। তবে প্রথম দিকের লেভেল ও তার টাস্কগুলো বেশ মজার হওয়ায় এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। নিয়ম অনুযায়ী একবার এই গেম খেললে বের হওয়া যায় না।

নিউট টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে পাওয়া ব্লু হোয়েলের ফাঁদে পা দেওয়া সেই তরুনীর ছদ্মনাম একা (আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী তার পরিচয় প্রকাশ করা হলো না)। আন্ডারকাভার টিমের সদস্য রিশাদ হাসান কথা বলেছেন তার সাথে। নিজ মুখে ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেমের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন সেই তরুনী। জানালেন, আজ থেকে প্রায় দুই মাস আগে জেনে শুনেই মেতেছিলেন মরণঘাতী ডার্ক ওয়েব গেম ব্লু হোয়েল সুইসাইডে। এরপর দেন সেই ভয়াবহ দিনগুলোর বর্ণনা।

একা বলেন, অনেক বেশি ডিপ্রেশনে ছিলাম। আমার আশেপাশে লোকজনই ছিল না। আমি ভার্সিটিতে অ্যাডমিট হইনি। চাঞ্চ পাইনি। ফ্রেন্ডরা যার যার ইউনিভার্সিটি নিয়ে ব্যস্ত। আমাকে সময় দেওয়ার মতো সময়ই নেই কারও। এরপরই এই গেমে ঢুকে পড়ি।

আমাকে প্রথম টাস্ক দেওয়া হয় হাত কেটে F57 লেখার। মডারেটরের নির্দেশে নিজের হাতে F57 লিখি। এরপর একের পর এক আসতে থাকে বিভিন্ন রকম নির্দেশনা। প্রতিটি টাস্ক সফলভাবে শেষ করলেই শুনতে দেওয়া হত রক্ত হিম হয়ে যাওয়া গান। 

একাকে দ্বিতীয় টাস্ক দেওয়া হয় ভোর ৪ টা ২০ মিনিটে উঠে ৩ টা হরর মুভি দেখার। মুভিগুলো তারাই নির্ধারণ করে দেয়। 

তিন নম্বর টাস্ক দেওয়া হয় তাদের নির্ধারিত ব্লু হোয়েল গান সারাদিন শোনা। এসময় কারও সাথে কোন কথা বলা যাবে না। মাঝেমধ্যে নীল তিমির শব্দ করতে হবে। (নিউজ টোয়েন্টিফোরকে নীল তিমির শব্দ করে শোনান একা)

একা বলেন, আমাকে চার নম্বর টাস্ক দেওয়া হয় হাতের তিন আঙুল কাটার। এরপর একটা নীল তিমি খাতায় এঁকে সেটাকে তিন ফোটা রক্ত পান করাতে বলা হয়। ওই দিনগুলো আসলেই শোচণীয় দিন ছিল আমার জীবনে। আমি সারাদিন খেতাম না, ঘুমাতাম না, একা একা থাকতাম। বই পড়তেও ভাল লাগতো না।

এভাবে এক একটা টাস্ক সফলভাবে শেষ করতে পারলেই গেমের পরের ধাপে যাওয়ার অনুমতি মেলে।  

বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে: 

মনোবিজ্ঞানীদের মতে হতাশা আর হিরোইজম থেকে এই গেমে কৌতুহলবসত ঢুকছে তরুণ প্রজন্ম। এরপর তারা আর বেরিয়ে আসতে পারে না।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার বলছেন, অতিমানবীয় কিছু করা বা জীবনের সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কমে যাওয়াই এমন মরণঘাতী পথে পা বাড়ানোর কারণ। বাচ্চাদের বিচার বিবেচনার ক্ষমতা খুব একটা থাকে না। সেক্ষেত্রে বাচ্চারা যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, বাবা-মায়েদের একটু সচেতন হওয়া উচিত। আত্মহত্যা কোন সমাধান নয় বরং প্রয়োজন পরিবার, প্রিয়জনের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও তাদের সহযোগিতা।

মন্তব্য