সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ৩৩ মিনিট আগে

বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে গেল সন্তানেরা

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে গেল সন্তানেরা

৫ সন্তানের জননী ফুজলি বেগম (৮৬)। স্বামী ছামাদ শেখ মারা গেছেন ৩০ বছর হলো। অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে ৩ ছেলে আর ২ মেয়েকে বড় করেছেন ফুজলি। দিয়েছেন ছেলে-মেয়েদের বিয়ে। এখন তারা নিজ নিজ সংসারে ভালোই আছেন।অথচ সেই সন্তানেরাই কিনা গর্ভধারিণী মাকে রাস্তায় ফেলে গেলেন!

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ি গ্রামে এমনই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। রাতের অন্ধকারে বৃদ্ধা ফুজলি বেগমকে বাড়ি থেকে ভ্যানে করে নিয়ে বাঁশঝাড়ের নিচে রাস্তায় ফেলে যান তার ছেলেরা।

আজ (২৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার) ভোরে স্থানীয়রা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে বড় ছেলে ডাকু শেখের বাড়িতে রেখে এসেছেন। বর্তমানে ছেলের ঘরের বারান্দায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন মা।

স্থানীয়রা জানান, ৩০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের বড় করেছেন ফুজলি বেগম। এখন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। ফলে কোনো কাজ করতে পারেন না। ছেলে-মেয়েদের কাছে এখন বোঝা হয়ে গেছেন তিনি।৩ ছেলের আলাদা সংসার থাকলেও কোনো ছেলেই তার দায়িত্ব নিতে চান না। তাই রাতের অন্ধকারে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে আসেন তারা। গ্রামের লোকেরা ছেলেদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও তার দায়িত্ব নিতে নারাজ ছেলেরা।

ওই গ্রামেরে এক বাসিন্দা বলেন, ‘বৃদ্ধা মাকে রাস্তার পাশে একটি প্লাস্টিকের বস্তা বিছিয়ে শুইয়ে রেখে যান তার ছেলেরা। আমরা গিয়ে দেখি, তার শরীরে পোকামাকড়ে ভরা। এ দৃশ্য দেখে চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি।’

কুচিবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘আমরা গ্রামের লোকজন বৃদ্ধার ছেলেদের অনেক অনুরোধ করেছি। কোনো ছেলেই মায়ের দায়িত্ব নিতে চায় না। আমরা সবাই তার ছেলেদের বলেছি, আমরা সবাই মিলে বৃদ্ধার খাবার দেব, তোমরা শুধু বৃদ্ধার থাকার ব্যবস্থা করো। কিন্তু ছেলেরা কেউই মায়ের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বৃদ্ধার ছেলেরা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি ওই বৃদ্ধার আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী বনি আমিন বলেন, ‘আমি বর্তমানে একটি কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ওই বৃদ্ধার খোঁজ-খবর নেয়া হবে।’


অরিন▐ NEWS24 

মন্তব্য