বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি না করার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি না করার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি না করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জোর দিতে হবে। অন্যথায় দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। ’

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ইউজিসি অডিটোরিয়ামে একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুরোনো কোর্স কারিকুলাম বদলে আউটকাম বেজড এডুকেশন কারিকুলাম অনুসরণের আহ্বান জানান।  

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান এমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন।

আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম-এর উপাচার্য ড. অনুপম সেন।

বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগের ফলে বিগত বছরগুলোতে দেশের শিক্ষা খাতে সংখ্যাগত দিক দিয়ে প্রসার ঘটেছে। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণসমাজকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে সংখ্যাগত প্রসারের এ উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য ছিল। কিন্তু শিক্ষার মানোন্নয়নকেই এখন সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকের বিষয়। এজন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলাসহ একাডেমিক ও অবকাঠামোগত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, উদ্ভাবন ও গবেষণার পরিবেশ তৈরি, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়া কোলাবরেশন বৃদ্ধিসহ বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ‘

ডা. দীপু মনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবন ও গবেষণা কার্যক্রম উৎসাহিত করতে গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে। শিক্ষা খাতের সার্বিক বাজেটও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ‘

শিক্ষার বাজেট বৃদ্ধির চেয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে শিক্ষার উন্নয়নে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের সময় অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে একাডেমিক লক্ষ্য সুস্পস্ট করার আহ্বান জানান। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতেও ইউজিসিকে আহ্বান জানান। এ ছাড়াও তিনি ইউজিসিকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী গ্ৰ্যাজুয়েট ও কোর্স অনুমোদনের পরামর্শ দেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৪ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে, যা পৃথিবীর অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এ বিশালসংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শ্রমবাজার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ’

তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে পাবলিক ও প্রাইভেট ব্যবস্থাপনায় ১৬৮টি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৪ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কমিশনের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ’ 

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউজিসির কাঠামো, আইনি ও জনবল আজকের ১৬৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পর্যাপ্ত নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ইউজিসির সক্ষমতা, দক্ষতা ও আইনি ক্ষমতা প্রদান এবং জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ একান্ত প্রয়োজন। ’

news24bd.tv/আইএএম