সিরাজগঞ্জে পৃথক হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জে পৃথক হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে শিউলি খাতুন নামে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে শিশু হত্যার দায়ে আরও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক এরফান উল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁতি গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন, নাটোরের ক্ষিরপোতা গ্রামের হাসান তালুকদারের ছেলে মাসুদ ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম। এর মধ্যে মনিরুল উপস্থিত থাকলেও সাদ্দাম ও মাসুদ পলাতক রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ব্রাহ্মণগাতি গ্রামের হাসান তালুকদারের প্রথম পক্ষের ছেলে মাসুদ ওরফে নূরনবী ও দ্বিতীয়পক্ষের সন্তান ভিকটিম শিউলি।

মাসুদকে সঠিকভাবে লালন-পালন না করায় বাবা ও সৎ বোনের ওপর তার ক্ষোভ ছিল। অপরদিকে শিউলিকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল তার প্রেমিক সাদ্দাম। এ অবস্থায় সাদ্দাম হোসেন ও মাসুদ দুজনেই ক্ষোভের বসে শিউলিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১০ সালের ২০ নভেম্বর শিউলি বাবার বাড়িতে বেড়াতে এলে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর বিল থেকে পুলিশ শিউলির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় হাসান তালুকদার বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন মামলার আসামি মাসুদ ওরফে নূরনবী ও সাদ্দাম। আসামিরা অনুপস্থিত থাকায় তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন স্টেট ডিফেন্সর ল’ইয়ার গোলাম হায়দার। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক মঙ্গলবার এ রায় দেন।

অপরদিকে বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামের সাহিদা খাতুন প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শিশু সন্তানসহ গোপালপুর গ্রামের মনিরুলকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই মনিরুলের চক্ষশূলে পরিণত হয় শাহিদার প্রথম পক্ষের সাত বছরের শিশু সন্তান শাহাদৎ হোসেন।

এ অবস্থায় ২০১৯ সালের ১৯ মে বিকেলে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে শিশু শাহাদৎকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মনিরুল। ছয়দিন পর শাহজাদপুর উপজেলার করতোয়া নদীর চরে অর্ধগলিত অবস্থায় ওই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শাহিদা খাতুন বাদী হয়ে মনিরুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক আসামির উপস্থিতিতে মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

news24bd.tvতৌহিদ

এই রকম আরও টপিক

পাঠকপ্রিয়