এনবিআরের পাওনা কর পরিশোধ করলেন ড. ইউনূস

সংগৃহীত ছবি

এনবিআরের পাওনা কর পরিশোধ করলেন ড. ইউনূস

অনলাইন ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা বাবদ ১২ কোটি টাকা দানকর পরিশোধ করলেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার এক পে-অর্ডারের মাধ্যমে কর অঞ্চল-১৪-এর উপ-কর কমিশনার বরাবর সাউথইস্ট ব্যাংকের মূল ব্রাঞ্চে ১২ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০৮ টাকার চেক প্রদান করেন ড. ইউনূস।

এর আগে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আরোপিত দানকর বৈধ ঘোষণা করা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। গত রবিবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

সেই আদেশের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই দানকর জমা দিয়েছেন।  

গত ২২ জুন ১৫ কোটি টাকা কর দাবি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। গত ৩১ মে ১৫ কোটি টাকা কর দাবি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদের করা তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এর ফলে ইউনূসের এনবিআরকে কর বাবদ আরও ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এর আগে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় ১৫ কোটির মধ্যে তিনি তিন কোটি টাকা জমা দিয়েছিলেন।

এর আগে গত ২৩ মে ১৫ কোটি টাকা কর দাবি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ড. ইউনূসের করা তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলার শুনানি শেষ হয়। একইসঙ্গে রায়ের জন্য সোমবার দিন ধার্য করা হয়।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালের দানকর আইন অনুযায়ী, ২০১১-২০১২ করবর্ষে মোট ৬১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা দানের বিপরীতে প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা কর দাবি করে নোটিশ পাঠায় এনবিআর। একইভাবে ২০১২-২০১৩ করবর্ষে ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা দানের বিপরীতে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা দানকর দাবি করে আরেকটি নোটিশ দেয় প্রতিষ্ঠানটি।  

এ ছাড়া ২০১৩-২০১৪ করবর্ষে ৭ কোটি ৬৫ হাজার টাকা দানের বিপরীতে প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টাকা কর দাবি করে নোটিশ দেওয়া হয়। দানের বিপরীতে কর দাবি করে এনবিআরের এইসব নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন ড. ইউনূস।  

তার দাবি, আইন অনুযায়ী দানের বিপরীতে এনবিআর এই কর দাবি করতে পারে না। তার এই মামলার শুনানি ২০১৪ সালে খারিজ করে রায় দেন কর আপিল ট্রাইব্যুনাল। এরপর হাইকোর্টে তিনি পৃথক তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা করেন।