সেই বৃদ্ধা মাকে ঠাঁই দিলো প্রশাসন

সংগৃহীত ছবি

সেই বৃদ্ধা মাকে ঠাঁই দিলো প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক

‘দু-চোখ যেদিকে যায় চলে যাও’ বলে যে বৃদ্ধা মাকে বাসে তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেই মা অবশেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই পেলেন।

কিছুদিন আগে বৃদ্ধা শাকিলা বেগমকে (৮০) বাসায় ফিরে আসতে বারণ করে ছেলে ও ছেলের বউ তাকে ঢাকা থেকে একটি বাসে তুলে দিয়েছিলেন। পরে দিনাজপুরের হাকিমপুরে এক সাংবাদিকের বাসার সামনে এসে পড়েন তিনি। পরে সাংবাদিকের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ খবর পৌঁছায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকে বিষয়টি জানান। জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ হাকিমপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সেই বৃদ্ধ মহিলাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দেন।  

গত শনিবার সন্ধ্যার একটু পরে বৃদ্ধাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিফট করা হয় এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ডিউটি ডাক্তারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। এরপর ২২ জুলাই রাতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাসুদ রানা বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তার ছেলের নাম জামিল এবং তার বাড়ি ঢাকায়।

বৃদ্ধা শাকিলা বেগমের জন্য সমাজসেবা দপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত নিরাপদ স্থায়ী ঠিকানা খোঁজার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিল। গত ২৩ জুলাই খোঁজ পাওয়া ‘সাফল্যের গল্প শোনাবো’ নামে একটি বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজ পাওয়া যায়। এটি সমাজসেবা কর্তৃক নিবন্ধিত ও এর অবস্থান রংপুর শহরে। সার্বিক যোগাযোগের পর বৃদ্ধাশ্রমের কাজকর্ম সন্তোষজনক বলে উপপরিচালক, জেলা সমাজসেবা অফিস থেকে মতামত পাওয়া যায়। অপরদিকে বৃদ্ধাশ্রমের তরফ থেকে জনৈক রেজাউল করিম যোগাযোগ করেন উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোঁজখবর নিতে থাকেন।  

গত ২৩ জুলাই বৃদ্ধাশ্রম থেকে পরিবহন অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ জেলা প্রশাসক দিনাজপুরের প্রতিনিধি হিসেবে সেই বৃদ্ধাকে বৃদ্ধাশ্রমে হস্তান্তর কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়, উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার দাস, অফিসার ইনচার্জ মো. আবু ছায়েম মিয়া, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ সাংবাদিকরা।

হস্তান্তর কার্যক্রম সমাপনান্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, ‘জেলা প্রশাসক মহোদয়ের আন্তরিক ও সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টার ফসল এই কার্যক্রম। মানবিক জেলা প্রশাসন গড়তে তিনি সব সময়ই প্রেরণা দেন, উদ্ধুদ্ধ করেন। এ রকম একটা মানবিক কাজের অংশীদার হতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। ’

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ রকম একটি মহতী কার্যক্রমের অংশ হতে পেরে জেলা প্রশাসক দিনাজপুরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকরা সার্বিক কার্যক্রমের এই সফল সমাপ্তির জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সাড়া দানের জন্য জেলা প্রশাসক দিনাজপুরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

news24bd.tv/SHS

এই রকম আরও টপিক