যে তিন কারণে মুমিনের আমল কবুল হয়

প্রতীকী ছবি

যে তিন কারণে মুমিনের আমল কবুল হয়

মাইমুনা আক্তার

নেক আমল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহর সাহায্য ও রহমত পাওয়া যায়। তবে মানুষের ভালো কাজগুলো নেক আমল হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো—

ইসলাম : ভালো কাজগুলো নেক আমল হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হলো ইসলাম।

মহান আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষী দেওয়া এবং মহানবী (সা.)-কে মহান আল্লাহর বান্দা ও রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করা। যাদের ঈমান নেই, পরকালে তাদের ভালো কাজের কোনো মূল্য নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা কুফরি করে, তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার মতো, পিপাসিত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে। অবশেষে যখন সে তার কাছে আসবে, তখন সে দেখবে সেটা কিছুই নয়।


আর সে সেখানে আল্লাহকে দেখতে পাবে। অতঃপর তিনি তাকে তার হিসাব পরিপূর্ণ করে দেবেন। আর আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। (সুরা : নুর, আয়াত : ৩৯)
এই আয়াত দ্বারা বোঝা গেল, ভালো কাজ আল্লাহর কাছে কবুল হতে হলে অবশ্যই ঈমান থাকতে হবে।

যেই ঈমানদার ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করবে, পবিত্র কোরআনে তার জন্য সুসংবাদ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদের উত্তম প্রতিদান দেব। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৭)
ইখলাস : নেক আমল আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো ইখলাস। ইখলাস না থাকলে সেই আমল মূল্যহীন হয়ে পড়ে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, বলো, আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ।

আমার কাছে ওহি প্রেরণ করা হয় যে তোমাদের উপাস্য এক, সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সত্কর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে। (সুরা : কাহফ, আয়াত : ১১০)
এই আয়াতকে দ্বিনের ভিত্তি বলা হয়ে থাকে, এখানে এমন দুটি শর্ত বর্ণনা করা হয়েছে, যার ওপরই সমস্ত দ্বিন নির্ভর করছে। এক. কার ইবাদত করছে, দুই. কিভাবে করছে। একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে হবে ইখলাসের সঙ্গে। আবার সে ইবাদত হতে হবে নেক আমলের মাধ্যমে। কোনো ধরনের শিরক বা দুনিয়াবি স্বার্থের স্থান সেখানে নেই।

সুন্নতের অনুসরণ : ইবাদত নেক আমলের মাধ্যমে করতে গেলে অবশ্যই নবীজি (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ করতে হবে। নবীজি (সা.)-এর সুন্নতের পরিপন্থী কোনো পদ্ধতিতে আমল করার কোনো সুযোগ নেই। পবিত্র কোরআনে এ ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘রাসুল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ করো, আর তোমাদের যা থেকে নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাকো, আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা। ’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ৭)

অতএব, কোনো মুমিন যদি চায় যে তার আমলগুলো মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হোক, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের অসিলা হোক, তাহলে অবশ্যই আমলে নবীজি (সা.)-এর অনুসরণ করতে হবে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে শর্তগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন।

এই রকম আরও টপিক