মতিউর রহমানের মৃত্যুতে শোকে বিহবল ময়মনসিংহ

সংগৃহীত ছবি

মতিউর রহমানের মৃত্যুতে শোকে বিহবল ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ রাজনৈতিক অঙ্গনের অবিসংবাদিত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান (৮১) রোববার রাত ১১টায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ময়মনসিংহ নগরীর নেক্সাস কার্ডিয়াক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে যেন পুরো ময়মনসিংহ শোকে বিহবর হয়ে পড়েছে।  

রাতে হাসপাতাল ঘিরে অগণিত রাজনৈতিক শিষ্য, ভক্ত আর আওয়ামী রাজনীতকরা ভিড় করেন।

দীর্ঘ নিঃশ্বাসের পাশাপাশি তাদের সবার মাঝেই চাপা আর্তনাদ। মরদেহের পাশে পরিবার কিংবা ঘনিষ্ঠজন যারাই আছেন, তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ। শোকে মুহ্যমান অনেকেই নীরব-নিথর হয়ে পড়েন।  

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান।

রাজনৈতিক নেতারা ছাড়াও সাধারণ মানুষও শোকে বিহবল। শুধু তাই নয়, সাইবার দুনিয়াতে এই রাজনীতিকের চিরবিদায় নিয়ে বিভিন্ন শোকাবহ পোস্ট দিচ্ছেন রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে অগণিত সাধারণ মানুষ। নেটিজেনদের এসব হৃদয়বিদারক স্ট্যাটাসে ভার্চুয়াল জগতেও ভেসে উঠছে শোকের চিহ্ন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর একুশে পদক পান সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম এই নেতা। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতোই দীর্ঘকাল দলে টেনেছেন অসংখ্য মানুষকে।  

রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ২৩ মাস কারবরণ করেন। তিনি ২০০২ সালে ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে বোমা হামলার মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেন। শত প্রলোভনের মুখে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রতি অবিচল থেকে তিনি তার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য ও জাতীয় স্বার্থে তার ত্যাগ স্বীকারের কারণে ১২ জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ৬ জনুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত মতিউর রহমান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।  

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবীণ সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ১৯৪২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবদুর রেজ্জাক এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা খাতুন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে পথ চলতে অভ্যস্ত এ প্রবীণ রাজনীতিক আকুয়া মডেল প্রাইমারি স্কুল থেকে ১৯৫৩ সনে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এ সময় তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথমস্থান অধিকার করেন। ১৯৫৪ সনে ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।  

এরপর তিনি নকলা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি সম্পন্ন করেন। নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয় স্কুলে পড়াশুনা করেন এবং ১৯৫৮ সনে মেট্রিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে ১৯৬১ সনে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এরপর ১৯৬৪ সনে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এ সময় তিনি গফরগাঁও থানার পাঁচবাগ উচ্চ বিদ্যালয় এবং মনোহরদি হাতিরদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বি.এস.সি. শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৬৬ সনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৬৭ সনে এম.এস.সি. সম্পন্ন করেন। এম.এস.সি. পাশের পর তিনি জামালপুর জেলার নান্দিনা কলেজ এবং ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে প্রাণিবিদ্যার শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন। তিনি স্বল্পকালীন ময়মনসিংহ কলেজেও শিক্ষকতা করেন।

news24bd.tv/আইএএম