সাদিকের ছবি দোকান থেকে নামানোয় ব্যবসায়ীর গলায় জুতার মালা!

সংগৃহীত ছবি

সাদিকের ছবি দোকান থেকে নামানোয় ব্যবসায়ীর গলায় জুতার মালা!

অনলাইন ডেস্ক

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ছবি ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নামিয়ে ফেলায় এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করেছেন তাঁর অনুসারীরা। এ ছাড়া পরে তাঁরা এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। হেনস্তার শিকার ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন।

 

কোতোয়ালি মডেল থানায় গত ২৫ আগস্ট এজাহার জমা দেন ওই ব্যবসায়ী। এতে দুই আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। তাঁরা হলেন নগরের শীতলাখোলার নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দার ও মো. সোহাগ। মঈন জমাদ্দার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য।

 

হেনস্তার শিকার বাচ্চু একই বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নগরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনার বাংলা মোটরসের স্বত্বাধিকারী।  

বাচ্চু বলেন, ঘটনার হোতা নাজমুল হাসান মঈনের বাড়িও চরামদ্দি ইউনিয়নে। তাঁর দোকান থেকে একটি মোটরসাইকেল বাকিতে নিতে চেয়েছিলেন মঈন। মোটরসাইকেল না দেওয়ায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। ২২ আগস্ট দুপুরে তাঁকে কালুশাহ সড়কে শহীদ আব্দুর রহিম ক্লাবে ডেকে নিয়ে যান মঈন। সেখানে দোতলার একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করেন মঈন ও তাঁর চার সহযোগী।  

মারধর শেষে গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাঁকে বলতে বাধ্য করা হয়, ‘সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র পদে মনোনয়ন না পাওয়ায় তাঁর ছবি দোকান থেকে নামিয়ে ফেলেছেন। এ জন্য তাঁকে জুতার মালা পরানো হয়েছে। ’ 

বাচ্চু আরও বলেন, মারধরকারীরা বলেন যখন-তখন টাকা চাইলে না দিলে ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ঘটনার পরদিনই প্রদীপ নামে একটি আইডি থেকে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।  

বাচ্চু অভিযোগ করেন, ক্লাব থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই তিনি কোতোয়ালি থানায় গিয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে অভিযোগ দেন।  

এ বিষয়ে মঈন জমাদ্দার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে দুটি ভিডিও এডিট করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বাচ্চুর গলায় জুতার মালা পরানোর যে ভিডিও; এর সঙ্গে আগের ভিডিওর সম্পৃক্ততা নেই। ওখানে সাদিক আবদুল্লাহর নাম বলা আমার উচিত হয়নি। এ জন্য সাদিক ভাইও আমার ওপরে খুব ক্ষিপ্ত হয়েছেন। এটা আমি ভুল করেছি। ’ 

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ দিলে আমরা সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ’
News24bd.tv/AA

পাঠকপ্রিয়