বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সংগৃহীত ছবি

বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

বগুড়ার শাজাহানপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও কলেজশিক্ষক পারভেজ আলম তালুকদারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে তার হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাথাইল চাপড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পারভেজ আলম উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বগুড়া কৈচড় বিএম কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারভেজ উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের সাবরুল এলাকার সাবেক মেম্বার মনসুর তালুকদার ওরফে মন্টু মিয়ার ছেলে। এদিকে ছেলে হত্যার খবর পেয়ে বাবা মনসুর তালুকদার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হজরত আলি বলেন, ‘পারভেজ স্থানীয় সাবরুল বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বগুড়া শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মাথাইল চাপড় এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চার-পাঁচজন তার পথরোধ করে কোপাতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ‘পারভেজ দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানেও তাকে কোপানো হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। ছেলের মৃত্যুর খবরে পারভেজের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য মন্টু মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ’

ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘প্রায় দেড় মাস আগে পারভেজের বড় ভাই পান্নাকে চাঁদার দাবিতে সাগর নামের একজন ছুরিকাঘাত করেন। ওই সময় পান্না বেঁচে যান। তবে তখন ছোট ভাই পারভেজের ক্ষতি করার হুমকি দেয়। এ নিয়ে আগস্ট মাসে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে অভিযোগ জানানো হয়। ওসি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ’

ছিলিমপুর মেডিকেল ফাঁড়ির এসআই আনিসুর রহমান বলেন, ‘বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে পারভেজ নামে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় শজিমেক হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথা, ডান হাতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন ছিল। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ’

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, ‘ধারাল অস্ত্রের কোপে পারভেজের ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। ’

ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পারভেজের পরিবারকে একাধিকবার সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কথা বলা হয়েছিল। তবে তারা মামলা করেননি। চেয়ারম্যান অভিযোগ দিলে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তখন সাগর বাধ্য হয়ে কয়েকদিন আগে এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তার কয়েকজন সহযোগীকে কয়েক দিন আগে গ্রেপ্তার করা হয়। ’

news24bd.tv/আইএএম

এই রকম আরও টপিক