শপিং মলে তালাবদ্ধ টুথপেস্ট-চকোলেট!

সংগৃহীত ছবি

শপিং মলে তালাবদ্ধ টুথপেস্ট-চকোলেট!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সুপার শপিং মলগুলোতে টুথপেস্ট, চকলেট, ওয়াশিং পাউডার এবং ডিওডোরেন্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো এখন তালা দিয়ে রাখা হচ্ছে। দ্রব্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির মধ্যে ছোটখাটো এবং পরিকল্পিত বড় চুরি ঠেকাতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন দোকানমালিকেরা। এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।  

এসব চুরি ও সহিংসতার ঘটনা নিয়ে প্রথম উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্ট ও টার্গেট, ওষুধ বিক্রেতা সিভিএস এবং ওয়ালগ্রিনস, গৃহনির্মাণসামগ্রী বিক্রেতা হোম ডিপো এবং জুতা বিক্রেতা ফুট লকার।

 

সম্প্রতি ডিকস স্পোর্টিং পণ্যর প্রধান নির্বাহী লরেন হোবার্ট কনফারেন্স কলে বলেন, ‘বর্তমানে খুচরা দোকানে পরিকল্পিত অপরাধ ও চুরি গুরুতর সমস্যা। এটি অনেক খুচরা বিক্রেতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ’ 

কোম্পানির দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ফলাফল ও বাৎসরিক প্রত্যাশার ওপর চুরির প্রভাব লক্ষণীয়। ডিকস এখন বছরে প্রতিটি পণ্য বিক্রি থেকে গড়ে ১১ দশমিক ৩৩ থেকে ১২ দশমিক ১৩ ডলার আয়ের আশা করছে।

যা আগের ১২ দশমিক ৯০ থেকে ১৩ দশমিক ৮০ ডলার প্রত্যাশার চেয়ে কম।  

চুরির মাত্রা অস্বাভাবিক
আমেরিকান খুচরা পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান টার্গেটের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান কর্নেল এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে আমাদের দোকানে সহিংসতা, হুমকি ও চুরির ঘটনা ১২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা অস্বাভাবিক মাত্রার খুচরা চুরি এবং অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছি। ’ 

ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের ২০২২ খুচরা বিক্রেতাদের নিরাপত্তা সমীক্ষা অনুসারে, শুধু ২০২১ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রেতাদের আনুমানিক ৯৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের এই ক্ষতি হয়েছে কর্মীদের চুরি, দোকানপাট বা প্রশাসনিক ত্রুটিসহ নানা কারণে।  

সমীক্ষাটি আরও উল্লেখ করেছে, খুচরা বিক্রেতারা ২০২১ সালে গড়ে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ পরিকল্পিত চুরির মুখে পড়েছে। বেশির ভাগ দোকানিরাই জানিয়েছেন, করোনা মহামারির পর এসব চুরি বেড়েছে।  

ফলে দোকানগুলো তাকে কাচের দেয়াল, রেফ্রিজারেটরে তালা এবং সারিগুলোতে কল বাটন বসাচ্ছে। পাশাপাশি অরক্ষিত তাকের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হচ্ছে।  

চুরিতে ব্যবহার হচ্ছে ব্লোটর্চ
কিন্তু এই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা সব সময় কার্যকরী নয়। চলতি বছরের জুনে হুডিওয়ালা জ্যাকেট এবং মুখোশ পরা এক ব্যক্তি নিউইয়র্কের কুইন্সের ওয়ালগ্রিনস আউটলেটের লক করা কেস গলাতে একটি ব্লোটর্চ ব্যবহার করেছিলেন। এ সময় ওই আউটলেট ভরা গ্রাহক এবং কর্মচারীরা ছিলেন। তারপর তিনি পণ্যগুলো ব্যাগে ভরে মূল্য পরিশোধ না করেই চলে যান।  

কুইন্সের বাসিন্দারা বেশ কয়েকটি সিভিএস আউটলেটে অনিরাপত্তার জন্য পিটিশন ব্যবস্থা চালু করেছেন। তবে মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু খুচরা বিক্রেতা কর্মীদের চুরির ঘটনায় চেপে যেতে এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে নির্দেশ দিয়েছে।  

কেউ কেউ আউটলেটগুলো বন্ধের কথা বিবেচনা করছেন। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জায়ান্ট ওয়াশিংটনে একটি সুপার মার্কেট বন্ধের চিন্তাভাবনা করছে। যেখানে চুরি এবং সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে।  

প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠছে। অন্য আউটলেটেও এই প্রভাব পড়ছে।  

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকান
ওয়ালগ্রিনস ২০২১ সালে চুরির কারণে সান ফ্রান্সিসকোতে পাঁচটি স্টোর বন্ধ করে দেয়। একই বছর ওয়ালমার্ট লোকসানে পড়ে শিকাগোতে চারটি আউটলেট বন্ধ করে দেয়।  

ওয়ালমার্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জন রেইনি আগস্টের মাঝামাঝি বলেন, ‘লোকসান গত বছর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বাড়ছেই। সারা দেশে পরিস্থিতি এমন। আমরা এমনটি চাই না। কারণ, এর ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। ’ 

যুক্তরাষ্ট্রে দলবদ্ধ চুরির ঘটনাও বেড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি নর্ডস্ট্রম স্টোরে গত ১২ আগস্ট প্রায় ৩০ জন মুখোশধারী ৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বিলাসবহুল পণ্য চুরি করে এবং একজন নিরাপত্তারক্ষীর মুখে বিয়ার স্প্রে করে পালিয়ে যায়।

news24bd.tv/AA