‘ভেতরের লোকজনই সরিয়েছেন কাস্টমস হাউসের ৫৫ কেজি স্বর্ণ’

সংগৃহীত ছবি

‘ভেতরের লোকজনই সরিয়েছেন কাস্টমস হাউসের ৫৫ কেজি স্বর্ণ’

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টম হাউসের গুদাম থেকে যে ৫৫ কেজি সোনা চুরি হয়েছে, তার সঙ্গে কাস্টমসের ভেতরের লোকজনই জড়িত। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এ কথা জানান তিনি।  

তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটজনকে সোমবার থানায় আনা হয়। এর মধ্যে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) পদমর্যাদার চারজন এবং গুদামের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চারজন সিপাহি রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, ঘটনার সঙ্গে ভেতরের লোকজনই জড়িত।  

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোনো সন্তোষজনক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এই চুরির সঙ্গে ভেতরের লোকজনই জড়িত রয়েছে। তাদের শিগগিরই আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিমানবন্দরের কাস্টম হাউস এলাকা থেকে এরই মধ্যে বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কাস্টম হাউসের গুদামের ভেতর কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। এ ঘটনায় একাধিক কর্মকর্তার নাম বেরিয়ে আসছে। নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে চক্রটি সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখাসহ চুরির সব রকম আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেছে কি না এমন প্রশ্নে বিমানবন্দর থানার ওসি আজিজুল হক মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে আমরা গুরুত্বসহ কাজ করছি। এ ছাড়া সিআইডি, ডিবিসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। ’

গুদাম থেকে সোনা চুরির ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় রোববার দিবাগত রাতে কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এতে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের।

ওই দিনই শুল্ক বিভাগের একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সোহরাব হোসেন মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, কাস্টমসের গুদাম কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শনিবার সকাল ৯টার দিকে কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনারকে মোবাইল ফোনে জানান, গুদামের স্টিলের আলমারির তালা ভাঙা। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের দায়িত্বরত যুগ্ম কমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। আগের দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে গুদামের তালা বন্ধ করে চাবি নিয়ে চারজন কর্মকর্তা একসঙ্গে বিমানবন্দর কাস্টমস এলাকা ত্যাগ করেন।

পরে যুগ্ম কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনাররা এবং ঢাকা কাস্টমস কমিশনার গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে আলমারির তালা ভাঙা এবং গুদামের পূর্ব পাশে ওপরের দিকে টিনের কিছু অংশ কাটা দেখতে পান।

এজাহারে বলা হয়, শনিবার দিনগত রাত সোয়া ১২টা থেকে পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে সোনাগুলো চুরি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

news24bd.tv/আইএএম

এই রকম আরও টপিক