অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে ফলপ্রসূ আলোচনা 

সংগৃহীত ছবি

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে ফলপ্রসূ আলোচনা 

অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার নিয়ে এবং বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ছাত্র আনার প্রক্রিয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান প্রভাবশালী সিনেটর-এমপিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সরকার নিয়ে প্রবাসে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় এই ঘৃণ্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রবাসী। গত জুন, ২০২৩-এ, সিনেটকে বিভ্রান্ত করে ভুল তথ্য ও উপাত্ত জানিয়ে রীতিমতো সিনেটে শুনানি পর্যন্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ান গ্রিন পার্টির দুই সিনেটরকে দিয়ে এই কাজটি করা হয়েছে।  

ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. আবুল হাসনাত মিল্টন ও অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম অফিসিয়ালি দুই সিনেটরের শুনানিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং সেই শুনানির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে ২৭ পাতার পিটিশন দায়ের করেন। ওই পিটিশনটি গ্রিন পার্টির দুই সিনেটরের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট অব হাউজ (সিনেট) ও স্পিকারের কাছে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। জনগণের অর্থে চালিত সিনেট শুনানিতে একটি তৃতীয় দেশ বাংলাদেশে মিথ্যা গুম ও মানবাধিকার সম্পর্কিত মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন প্রদান করা হয়, যা অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি হিসেবে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে কমউনিটিতে।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. আবুল হাসনাত মিল্টন, অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম ও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ সিদ্দিকীকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে তিনটি ক্লোজ ডোর মিটিংয়ে ডাকা হয়। এ সময় তিনটি আলাদা আলাদা মিটিংয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিনটি মিটিং হয়, সিকিউরিটি ও ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান পিটার খলিল এমপি, ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ পার্লামেন্টরি ফ্রেন্ডসের মেট বুরেল এমপি, সিনেটর টনি শেলডনের সঙ্গে। এ সময়, রোহিঙ্গা ও সাম্প্রদায়িক সমস্যায় বাংলাদেশের অবস্থান, মানবাধিকার-গণতন্ত্র-গার্মেন্টস-নারীর ক্ষমতায়ন-সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।  

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য সহানুভূতিশীল অবস্থান ও বর্তমান উন্নয়ন নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন তারা। সেইসঙ্গে এই উন্নয়ন ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখায় বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থানে আস্থা রাখার কথাও বলেন। সিনেট শুনানির ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান জাতিসংঘের নীতির সঙ্গে যাবে বলে নিশ্চয়তা দেন।  

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান শামিম ও সাজ্জাদ সিদ্দিকী প্রতিটি আলোচনার প্রারম্ভে গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতার কাছে পিটিশন হস্তান্তর করেন। সেইসঙ্গে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো হস্তক্ষেপের বিরূপ মনোভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।  

সিকিউরিটি ও ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান পিটার খলিল এমপি, ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ পার্লামেন্টরি ফ্রেন্ডসের মেট বুরেল এমপি, সিনেটর টনি শেলডন জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সমস্যা তারা বোঝেন, সেই সঙ্গে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে বর্তমান সরকারের দারুন সাফল্যে তারাও ভাগিদার। একইসঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের বিষয়ে যেকোনো কারণের বিরুদ্ধে থাকবে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান।

তিনটি মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রজন্মের তিন ব্যবসায়ী মো. রাশেদুল আলম, মো. শাহাদাত আলম চৌধুরী ও রায়ান শরীফ। মূলত স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি ও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বাংলাদেশ থেকে কীভাবে আরও ব্যাপক সংখ্যক ছাত্রকে অস্ট্রেলিয়ায় আনা যায়-এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশ পার্লামেন্টরি ফ্রেন্ডস এর প্রভাবশালী অন্যতম নেতা মেট বুরেল এমপি, সিনেটর টনি শেলডনের সঙ্গে এই আলোচনা হয়।  

মেট বুরেল এমপি, সিনেটর টনি শেলডন জানতে চান অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পরামর্শ। মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে কীভাবে বাংলাদেশে থেকে ছাত্রদের বাজার বৃদ্ধি করা যায়, ভ্যাট ডিগ্রিতে দ্রুত ভিসা চালু ও সংখ্যা বৃদ্ধি ও রিজিওনাল শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা, জীবন ব্যবস্থা ও সুন্দর ভবিষ্যত নিয়ে প্রচার ও সুবিধা বাড়ানোতে প্রবাসী বাংলাদেশি স্টুডেন্ট কনসালটেন্টদের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেশ করেন মো. রাশেদুল আলম।  

মেট বুরেল এমপি ও সিনেটর টনি শেলডন এ সময় মনোযোগ দিয়ে প্রস্তাবনা শোনেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত কাজ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। মেট বুরেল এমপি অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের  রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সভার পরেই ডাকা এই ক্লোজডোর মিটিংয়ের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, আপনাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি এবং এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তাই আমি আপনাদের সঙ্গে আজই বসেছি। ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে এবং কীভাবে দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার এডুকেশনে আরও শিক্ষার্থী বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কাজ করবো। ’

এ সময়ে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হারিশ ভেলজী ও আয়শা আমজাদ উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ব্যপারে ও বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এটিই ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বেসরকারি আলোচনা; যা ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।

news24bd.tv/আইএএম