গণপরিবহন নেই, পায়ে হেটে ৭ কিলোমিটার
গণপরিবহন নেই, পায়ে হেটে ৭ কিলোমিটার

রাস্তায় নেই গণপরিবহন, কর্মজীবীদের পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যাত্রা

গণপরিবহন নেই, পায়ে হেটে ৭ কিলোমিটার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদে পাসকৃত ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’-এর বিভিন্ন ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন চলছে আজ। সড়কে নেই গণপরিবহন। চরমে উঠেছে জনভাগান্তি। ৮-১০ কিলোমিটার পায়ে হেটেও গন্তব্যে যাচ্ছেন নিম্নবিত্ত কর্মজীবী মানুষগুলো।

আজ শ্রমিকদের উশৃঙ্খলা না থাকলেও সড়কে গণপরিবহন নেই। ফলে গতদিনের মতো আজও চরম দুর্ভোগে পড়েছে কর্মজীবী মানুষ। শনিরআখড়া, দনিয়া, যাত্রাবাড়ী এলাকার কর্মজীবীদের পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। পরিবহন না পেয়ে মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে কর্মজীবীদের পড়তে হচ্ছে বেশি ভোগান্তিতে।

এদিকে ফার্মগেট থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার হেঁটে নতুন বাজার কর্মস্থলে এসেছেন একটি ইলেক্টনিক্স শোরুমের অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার। তিনি বলেন, ''আমাদের মতো নিম্নবিত্ত মানুষেরা চাইলেই উবার, পাঠাও, সিএনজি অটোরিক্সা ভাড়া করে আসতে পারি না। তাতে আমাদের পুরো দিনের বেতনই চলে যায়। আমাদের মতো মানুষের অনেক টাকাও নেই, আবার আমরা কারও কাছে হাতও পাততে পারি না। বস্তিতে সস্তায় ঘর ভাড়া করে থাকতে পারি না। সন্তানের ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হয়। পকেটে টাকা না থাকলেও বাইরে চাকচিক্য রাখতে হয়। ঢাকা শহরে আমার মতো এমন লাখো মানুষ আছে যাদের পেটে ভাত না থাকলেও মুখে হাসি রাখতে হয়। যাদের ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরায় কিন্তু গলায় টাই পরে থাকতে হয়। এ ধরণের হরতাল, অবরোধ, ধর্মঘটে আমাদের মতো নিন্মবিত্ত মানুষগুলো সবচেয়ে সমস্যায় পড়ে। অফিসে আসতেও দেরি হয়ে গেছে। ''

এদিকে গণপরিবহন না থাকায় পোয়াবারো উবার, পাঠাও, অটো ও রিকশাচালকদের। খুশি মতো ভাড়া হাকছেন তারা। যাত্রীরা বলছেন, উবার-পাঠাও এর চালকরা এখন আর অ্যাপের মাধ্যমে নির্ধারিত ভাড়ায় যাচ্ছেন না। তারা অ্যাপ বন্ধ রেখে সরাসরি কথা বলে যাত্রী ঠিক করছেন। ভাড়াও বেশি নিচ্ছেন।

এই অচলাবস্থার ফলে রাজধানীতে এক প্রকারের মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।  

এর আগে গতকাল রবিবার পরিবহন শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের প্রথমদিন রাজধানীতে বিভিন্ন প্রাইভেটকারের চালক ও যাত্রীদের পোড়া মবিল ও কালি মাখানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ায় মারা যায় সাত দিন বয়সী এক শিশু।

সম্পর্কিত খবর