স্বামী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্ত্রী গ্রেপ্তার

স্বামী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্ত্রী গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্বামী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার বিবি কুলসুম (৩৭) উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের মধ্য নরোত্তপুর গ্রামের ওয়াহেদ আলী সর্দার বাড়ির আবুল হোসেনের মেয়ে।

শনিবার আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উপজেলার নরোত্তপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের মিজি বাড়ির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শহীদ উল্যার সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই ওয়ার্ডের বিবি কুলসুমের। ১২ বছরের সংসারে তাদের তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। অন্ধ শহীদ বেকার হওয়ায় স্ত্রী কুলসুম সেলাই কাজ করে পরিবারের খরচ বহন করতো।

সেলাই কাজ করে বীমা কোম্পানিতে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় করে।

সংসারের সুখের আশায় ভুক্তভোগী শহীদের পিতার ঘর মেরামত করার জন্য ওই টাকা দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ঘর মেরামত কাজে খরচ হওয়া টাকা ফেরত কিংবা কোন ধরনের সুরাহা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়।

পুলিশ আরও জানায়, এছাড়া শহিদ প্রায় সময় তার স্ত্রী সেলাই কাজ করতে গেলে বিদ্যুৎ বিলের অযুহাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত। এসব বিষয় নিয়ে তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়াঝাটি হতো।

২০১৮ সালে কুলসুমের পিতা নিহত শহীদ এবং আসামির মধ্যে ঝগড়াঝাটি বন্ধ করতে গেলে শ্বশুরের সামনে কুলসুমকে মা-বাবা নিয়ে গালাগালি ও মারধর করে শহিদ। রাগন্বিত হয়ে কুলসুম তার অন্ধ স্বামীকে গরম তেলের কড়াইয়ে ধাক্কা দিয়ে মা বাবা সহ অজ্ঞাতস্থানে পালিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ মৃত্যুবরণ করে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে কুলসুমসহ তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়। আদালত আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিবি কুলসুমকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার মা লিলি বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার সকালে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।  

এই রকম আরও টপিক