বিশ্বের বৃহত্তম ৮ বিমানবন্দর

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

বিশ্বের বৃহত্তম ৮ বিমানবন্দর

হংকং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। সংগৃহীত ছবি

বড় ভাস্কর্য, বড় সেতু, বড় ভবন, বড় শপিং মল তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে দেশে দেশে। সেই প্রতিযোগিতায় আছে বিমানবন্দর তৈরির ক্ষেত্রেও। কেউ সবচেয়ে উচু বিমানবন্দর তৈরি করছে, কেউ সাগরের মধ্যে বিমানবন্দর তৈরি করছে, কেউ করছে সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর।   

ইস্তানবুলে তৈরি হচ্ছে নতুন এক বিমানবন্দর, যাকে পৃথিবীর বৃহত্তম বিমানবন্দর বলছে তুরস্ক৷ তবে দেখে নেয়া যাক এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিমানবন্দরগুলো। 

বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, চীন
এই বিমানবন্দর ২০১৭ সালে ব্যবহার করেছেন ৯ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ৷ ২০০৮ অলিম্পিকের আগে তৈরি করা হয়েছিল এই বিমানবন্দরটি৷

দুবাই ইন্টারন্যাশনার এয়ারপোর্ট, আরব আমিরাত
২০১৭ সালে দুবাই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন ৮ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ৷ মজার ব্যাপার হলো, এর মধ্যে ৮ কোটি ৭৭ লাখ মানুষই আরবের নন৷ অনেকেই এই বিমানবন্দরে শপিং করতে ভালোবাসেন৷

টোকিও হানেদা এয়ারপোর্ট, জাপান
জাপানের রাজধানী টোকিও’র এই বিমানবন্দরটি বছরে প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ মানুষ ব্যবহার করেন৷

লস এঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, যুক্তরাষ্ট্র
ছুটিতে ক্যালিফোর্নিয়া গেলে মোটামুটি নিশ্চিত যে, আপনি এই বিমানবন্দরেই নামবেন৷ আটলান্টার মতো না হলেও বছরে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করছেন৷

ও’হারে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্র
শিকাগোতেও শান্তি নেই জার্মান ফুটবল তারকা বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের ফ্যানদের৷ কারণ, শিকাগো ফায়ারে যোগ দেয়া এই সাবেক বায়ার্ন ও ম্যানইউ তারকাকে বিমানবন্দরে খুঁজে পেতেই খবর হয়ে যাবে৷ কারণ, এই বিমানবন্দর দিয়ে চলাফেরা করা ৭ কোটি ৯৮ লাখ যাত্রীর একজন তিনি৷

লন্ডন হিথ্রো, যুক্তরাজ্য
লন্ডনের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর হিথ্রো৷ ফি বছর এখান থেকে ৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বিমানে ওঠানামা করেন৷ আর মাত্র দু’টি রানওয়ে দিয়েই বিমানবন্দরটি তা ম্যানেজ করে৷

হংকং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, চীন
২০১৭ সালে এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছেন ৭ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী৷

সাংহাই পুদং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, চীন
সাংহাইয়ে দু’টি বড় এয়ারপোর্ট আছে৷ এর একটি এই পুদং৷ এখানে বছরে ৭ কোটি যাত্রী বিমানে ওঠানামা করেন৷

নিউজ টোয়েন্টিফোর/আরকে

পরবর্তী খবর

বান্ধবীকে ভিডিও কল: অতঃপর আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক

বান্ধবীকে ভিডিও কল: অতঃপর আত্মহত্যা

রাজধানীর শাজাহানপুরের গুলবাগ এলাকায় বান্ধবীকে ভিডিও কলে জানিয়ে এক তরুণী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে তার স্বজনরা। তার নাম রুবিনা ইয়াসমিন নদী (২১)। সে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ছিলো।

আজ বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।  রুবিনা ইয়াসমিন নদীর গ্রামের বাড়ি  বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায়। তার বাবা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বর্তমানে বরিশালের আগৈলঝারা থানায় কর্মরত।

পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতো রুবিনা। বান্ধবীর সাথে একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতো। 

নদীর রুমমেট মারিয়াম বলেন, ‘রুবিনা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে পড়াশোনা করতো। সেখানে একই বিভাগের সায়েম নামে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর /অক্টোবরে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় ছেলের চরিত্রগত কারণে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।’

রুবিনার খালাতো বোন শরিফা সুলতানা বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদের  পরও বিভিন্ন সময় রুবিনার বান্ধবী মারিয়ামের ফোনে সায়েম তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠাতো। মারিয়াম তা রুবিনাকে দেখাতো। পরে তা ডিলিট করে দিয়েছিল। এসব নিয়ে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে থাকতো।’

শরিফা সুলতানার দাবি, ওই ছেলেটার (সায়েম)  কারণেই সে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

মারিয়ম আরও  বলেন, আমি কাজে চলে গেলে বিকাল ৩টার সময় ফোন করে রুবিনা জানায়— আমার ভালো লাগছে না, তুই দ্রুত চলে আয়, আমি মরে যাবো।’ পরে ভিডিও কলে সে দেখায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচাচ্ছিল।

পরে দ্রুত গিয়ে দেখি ভেতর দিয়ে  দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করি। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত বলে ঘোষণা করেন।

news24bd.tv/এমিজান্নাত 

পরবর্তী খবর

বিবিসি বাংলা’র প্রতিবেদন

পলাশীর যুদ্ধ: ঢাকার যে প্রাসাদে শেষ দিনগুলো কেটেছিল ঘসেটি বেগমের

অনলাইন ডেস্ক

পলাশীর যুদ্ধ: ঢাকার যে প্রাসাদে শেষ দিনগুলো কেটেছিল ঘসেটি বেগমের

পলাশী যুদ্ধের স্মৃতিসৌধে সিরাজউদ্দৌলার ভাস্কর্য

পলাশীর যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ও যুদ্ধের ইতিহাস প্রায় সবারই জানা। আজ থেকে ২৬৪ বছর আগে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার হারের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ইংরেজদের একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।

ইতিহাস বলে, যে প্রসাদ, ষড়যন্ত্র সিরাজউদ্দৌলার এই পরাজয়ের পেছনে দায়ী তাতে তার নিজের সেনাপতি মীর জাফর ছাড়াও যোগ দিয়েছিলেন তার আপন খালা ঘসেটি বেগম।

এই ঘসেটি বেগম ছিলেন পলাশীর যুদ্ধে সিরাউদ্দৌলার পরাজয়ের পেছনে একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, যার জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছিল ঢাকার কাছে একটি প্রাসাদে বন্দী অবস্থায়। পলাশী যুদ্ধ পরবর্তীতে তিনি নিজেও শিকার হয়েছিলেন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের। এই ষড়যন্ত্রের ফলস্বরূপ বুড়িগঙ্গায় ডুবে করুণ মৃত্যু হয় তার। যড়যন্ত্রকারী হিসেবে বাংলার মানুষের কাছে তিনি বরাবর ঘৃণিত এবং জটিল মানসিকতার প্রতীক এক চরিত্র।

জিঞ্জিরা প্রাসাদ

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেছেন, ঘসেটি বেগম ইতিহাসবিদদের মনোযোগ তেমন পাননি, যে কারণে তার ঢাকা জীবন সম্পর্কে তেমন তথ্য পাওয়া যায় না।

তার জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছিল ঢাকার কাছে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত জিঞ্জিরা প্রাসাদে। জাতীয় তথ্য বাতায়ন নামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ওয়েবসাইটে ঢাকা জেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকায় জিঞ্জিরার প্রাসাদকে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কয়েক'শ গজ দূরে।

ওয়েবসাইটে জিঞ্জিরার প্রাসাদকে ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেটি কেরানীগঞ্জের স্থানীয় মানুষদের দখলে রয়েছে বলে জানা যায়।

মুনতাসীর মানুন বলেন, জিঞ্জিরা প্রাসাদে ঘসেটি বেগম একা নন, পলাশী যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিবারের নারী সদস্য অর্থাৎ তার মা, স্ত্রী, কন্যাসহ অনেকজন নারীকেই বন্দি করে পাঠানো হয়েছিল।

১৭৫৭ সালের শেষের দিকে তাদের ওই প্রাসাদে পাঠানো হয়েছিল। বন্দি নারীদের প্রাসাদের বাইরে বের হবার অনুমতি ছিল না। ১৭৬০ সালে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার আগ পর্যন্ত ওই প্রাসাদেই ছিলেন ঘসেটি বেগম।

ঘসেটি বেগমের পরিণতি

শ্রী পারাবাতের লেখা 'আমি সিরাজের বেগম' বইয়ে বলা হয়েছে পলাশীর যুদ্ধ শেষ হবার খবর মুর্শিদাবাদে পৌঁছার পরই ঘসেটি বেগম 'নিজের ভুল' বুঝতে পেরেছিলেন। পরাজিত নবাব তখনো হীরাঝিলে এসে পৌঁছাননি। সে সময় ঘসেটি বেগম নবাব-পত্নী লুৎফাকে সতর্ক করেছিলেন, যেভাবে, যে পথেই তারা পালান, যেন নদীপথে তারা না যান।

লুৎফা প্রথমবারের মত ঘসেটি বেগমের চোখে মাতৃত্বের ছায়া দেখেছিলেন। তার বয়ানে তিনি বলছেন, 'হয়ত নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন তিনি'।

এদিকে মীর জাফর নবাব হবার পরই ঘসেটি বেগমকে বন্দি করেন। কিছুদিন হীরাঝিলে বন্দি রেখে পরে তাকে ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে জিঞ্জিরা প্রাসাদে স্থানান্তর করেন। সেখানে তার সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলার মা আমিনা বেগমকেও অন্তরীণ করে রাখা হয়েছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা দুইজনই ওই প্রাসাদে ছিলেন। 

তার মৃত্যু নিয়ে দুই রকম তথ্য প্রচলিত আছে। কোথাও বলা হয়েছে, মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল, এবং সেখানেই তার কবর। কিন্তু বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭৬০ সালে মীরজাফরের ছেলে মীরনের পরিকল্পনায় ঘসেটি বেগম ও আমিনা বেগমকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। ঘসেটি বেগম ও আমিনা বেগমকে মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলে, বুড়িগঙ্গা নদীতে বড় একটি বজরায় তুলে দেয়। যাত্রা শুরুর কিছু পরে ঘসেটি বেগম এবং আমিনা বেগমকে নিয়ে মাঝনদীতে বজরাটি ডুবিয়ে দেয়া হয়।

কে ছিলেন ঘসেটি বেগম

বাংলাদেশের জাতীয় এনসাইক্লোপিডিয়া বাংলাপিডিয়াতে ঘসেটি বেগমের জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার আসল নাম মেহের-উন-নিসা বেগম। তিনি ছিলেন বাংলা, বিহার ও ওড়িশার নবাব আলীবর্দী খানের তিন মেয়ের মধ্যে প্রথম।

বড় ভাই হাজী আহমেদের তিনি ছেলের সাথে নিজের তিন মেয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন আলীবর্দী খান। মেহের-উন-নিসা বেগম বা ঘসেটি বেগমের বিয়ে হয়েছিল নওয়াজিস মুহাম্মদ শাহমাত জং এর সঙ্গে, যিনি ঢাকার নায়েবে নাজিম নিযুক্ত হয়েছিলেন। ঘসেটি বেগম দেখতে কেমন ছিলেন তার সচিত্র উল্লেখ তেমন নেই।

শ্রী পারাবাতের লেখা 'আমি সিরাজের বেগম' বইয়ে সিরাজেউদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফার বয়ানে রচিত গদ্যে ঘসেটি বেগমকে 'সুন্দরী', 'আভিজাত্যপূর্ণ', 'চতুর', 'বদমেজাজি' এবং 'উচ্চাভিলাষী' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নবাব আলীবর্দী খানের প্রাসাদ হীরাঝিলের একমাত্র শক্তিশালী নারী চরিত্র এই ঘসেটি বেগম যাকে বাইরের পৃথিবী চিনতে পেরেছে। তিনি এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে মুর্শিদাবাদে নবাব আলীবর্দী খানের তিন মেয়ের মধ্যে একমাত্র তারই আলাদা একটি প্রাসাদ ছিল।

হীরাঝিল প্রাসাদের মতই জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদের নামও ছিল নবাবের বাড়ির নামের সঙ্গে মিলিয়ে, মতিঝিল। বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়, ঘসেটি বেগমের 'রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা' ছিল এবং তিনি প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিলেন।

রাজনীতিতে ঘসেটি বেগম

নবাব আলীবর্দী খানের কোনো ছেলে ছিল না। তিনি ছোট মেয়ে আমিনা বেগমের বড় ছেলে সিরাউদ্দৌলাকে তার উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। এতে ঘসেটি বেগম অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তার পালকপুত্র, সিরাজউদ্দৌলার আপন ভাই ইকরামউদ্দৌলাকে ওই স্থানে দেখতে।

কিন্তু ইকরামউদ্দৌলা অল্প বয়সে গুটিবসন্তে মারা যান। এরপর তিনি তার মেজ বোনের ছেলে শওকত জংকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু নবাব আলীবর্দী খান সেটিও পছন্দ করেননি। এসব কারণে ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলাকে পছন্দ করতেন না, সিরাজউদ্দৌলাও তাকে পছন্দ করতেন না।

পিতার উত্তরাধিকারী নির্বাচনে তার মতামত গুরুত্ব পায়নি ঠিকই, কিন্তু বড় মেয়ে হিসেবে নবাব আলীবর্দী খানের কাছে তিনি গুরুত্ব পেতেন এবং রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতেন। তার সুপারিশে কেউ পদ হারিয়েছে, আবার কেউ ক্ষমতার কেন্দ্রে এসেছেন।

বাংলাপিডিয়া বলছে, নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছিলেন। এছাড়া ১৭৫৫ সালে স্বামীর মৃত্যুর পরেও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রচুর অর্থের মালিক হয়েছিলেন তিনি। তার স্বামী নওয়াজিস মুহাম্মদ শাহমাত জং ঢাকার নায়েবে নাজিম ছিলেন, কিন্তু মূলত ঢাকা পরিচালনা করতেন ঘসেটি বেগম।

ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন তার 'ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী' বইয়ে লিখেছেন, "ঢাকার শাসনভার প্রকৃতপক্ষে ছিল ঘসেটি বেগম ও তার বিশ্বস্ত দেওয়ান, অনেকের মতে প্রণয়ী, হোসেন কুলি খানের হাতে। কারণ নওয়াজিস ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির লোক।"

এদিকে, নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর নবাব হয়ে সিরাজউদ্দৌলা ঘসেটি বেগমকে অন্তরীণ করেছিলেন। সেসময় সিরাজউদ্দৌলা ঢাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছিলেন, কিন্তু রাজভাণ্ডার বা অর্থনৈতিক দায়িত্বে থাকা রাজবল্লভ সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হন।

রাজবল্লভ রাজকোষ থেকে প্রচুর অর্থ আত্মস্যাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ছেলে কৃষ্ণবল্লভ সিরাজউদ্দৌলার কাছ থেকে বাঁচতে কলকাতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ফোর্ট উইলিয়ামে আশ্রয় নেন।

আরও পড়ুন


দুবাইয়ের রাজকুমারী লতিফার দেখা মিলল স্পেনে

জামাল খাসোগিকে হত্যা করতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল হত্যাকারীরা

নাসির বলেন ‘প্লিজ স্টপ’, এরপর যে কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন পরীমণি (ভিডিও)

অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ দিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া


কৃষ্ণবল্লভকে ফেরৎ চেয়ে কলকাতায় ইংরেজ গভর্নরের কাছে চিঠি লেখেন সিরাজউদ্দৌলা। পলাশীর যুদ্ধের সেটিও একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কৃষ্ণবল্লভকে ফেরত দিতে রাজি হয়নি।

এদিকে, সিরাজউদ্দৌলার সেনাপতি মীর জাফর ছিলেন নবাব আলীবর্দী খানের সেনাপতি। তরুণ নবাবের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সংঘাতের ফলেই একসময় সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে নামেন তিনি। তখন তার সঙ্গে যোগ দেন ঘসেটি বেগম। ষড়যন্ত্রে আরো যুক্ত হয় ব্যবসায়ী জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদ। সবার অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল নবাবকে উৎখাত করা।

বাংলাপিডিয়া বলছে, সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাতের পরিকল্পনায় ঘসেটি বেগম প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। অবশেষে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশী প্রান্তরে ইংরেজ বাহিনীর কাছে হেরে যান নবাব সিরাজউদ্দৌলা।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

বৃষ্টিপাত চলবে আরও তিন দিন

অনলাইন ডেস্ক

বৃষ্টিপাত চলবে আরও তিন দিন

আজসহ পরের তিনদিন দেশের সবগুলো বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২২ জুন) সকালে এসব তথ্য জানায় তারা।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।


আরও পড়ুনঃ

জম্মু-কাশ্মীরে সংঘর্ষ: লস্কর-ই-তাইয়্যেবার কমান্ডারসহ নিহত ৩

যদি নারী অল্প পোশাক পরে ঘোরে তার প্রভাব পুরুষের উপর পড়তে বাধ্য: ইমরান

পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে সাইফুলকে ধরে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে: ফখরুল

ফেসবুকে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ


কয়েক দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে হাতিয়ায় ৯৭ মিলিমিটার। এছাড়া সন্দ্বীপে ৭৪, সীতাকুণ্ডে ৮১, চট্টগ্রামে ৩০, কক্সবাজারে ৩৪, কুতুবদিয়ায় ৩৫, বগুড়ায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

খাবার কিনতে গিয়ে লাঞ্ছিত শ্রীলংকান মুসলিমেরা

অনলাইন ডেস্ক

খাবার কিনতে গিয়ে লাঞ্ছিত শ্রীলংকান মুসলিমেরা

রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে গিয়ে অপমানিত ও লাঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শ্রীলঙ্কান মুসলিমরা। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে ইরাভুর শহরে এ ঘটনা ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল কিছু ছবিতে দেখা যায়, সামরিক বাহিনী মুসলমানদের রাস্তার ওপর হাত ওপরের দিকে তুলে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেছে।

মুসলিমরা দুটি রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে গিয়েছিলেন। আর এরপরই লকডাউন আইন লঙ্ঘনের অজুহাত দেখিয়ে সশস্ত্র সেনারা মুসলমানদের ওপর এই অমানবিক নির্যাতন করে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। মুসলিমদের অবমাননা করার জন্যই এসব করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। কারণ এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার কোনো ক্ষমতা সেনা সদস্যদের দেওয়া হয়নি। 


আরও পড়ুনঃ

জম্মু-কাশ্মীরে সংঘর্ষ: লস্কর-ই-তাইয়্যেবার কমান্ডারসহ নিহত ৩

যদি নারী অল্প পোশাক পরে ঘোরে তার প্রভাব পুরুষের উপর পড়তে বাধ্য: ইমরান

পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে সাইফুলকে ধরে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে: ফখরুল

ফেসবুকে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ


এই ঘটনার পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরাভুর এলাকায় এমন হয়রানির কিছু সুনির্দিষ্ট ছবি ভাইরাল হওয়ার পর মিলিটারি পুলিশ এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

এ অভিযোগে এরই মধ্যে অফিসার ইনচার্জকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য এমন আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে শৃংখলা ভঙের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রীলঙ্কায় এক মাসের লকডাউন চলছে। 

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কুমির ‘মুজা’র জন্মদিন পালন

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কুমির ‘মুজা’র জন্মদিন পালন

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কুমির `মুজার' ৮৫তম জন্মদিন পালন করেছে সার্বিয়ার বেলগ্রেড চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৪১, ১৯৪৫) এবং ১৯৯৯ সালে ন্যাটোর নিক্ষিপ্ত বোমা হামলার শিকার হয় বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক এই কুমিরটি।

২০১২ সালে কুমিরটির সামনের এক পায়ের পাতায় ব্যথা দেখা দিলে এক্সরের মাধ্যমে দেখা যায় কুমিটির পায়ের একটি আঙুল ভেঙে গেছে। পরে যা গ্যাংগ্রিন এ রূপ নেয়। গ্যাংগ্রিন থেকে কুমিরটিকে বাঁচানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টার এক অপারেশনের মাধ্যমে কুমিরটির আক্রান্ত পা ফেলে দেওয়া হয়।

টিকটকে বয়স্ক এ কুমিরটি ব্যাপক জনপ্রিয়। সংক্ষিপ্ত ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপস টিকটকে তার একটি ভিডিও শেয়ার করলে তা এক লাখের বেশি ভিউ হয়।


আরও পড়ুনঃ

শেষ ষোলোর আশা বাঁচিয়ে রাখলো সুইজারল্যান্ড

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

তিনটি কেন্দ্রে ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু

বেবি বাম্পের ছবি দিয়ে নুসরাতের লুকোচুরির ইতি


বেলগ্রেড চিড়িয়াখানার একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, বয়স্ক এ কুমিরটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কুমিরটি সুস্থ রয়েছে।

সাধারণত এধরণের কুমির ৩০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর