হত্যার ৫০ ঘণ্টা পর মামলা

নরসিংদীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রানা হত্যা

হত্যার ৫০ ঘণ্টা পর মামলা

মো. হৃদয় খান, নরসিংদী

নরসিংদীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রানা আকবর মোল্লা (৩৫) হত্যার প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর মামলা নথিভূক্ত করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে নিহতের স্ত্রী লিজা আক্তারের করা মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক এরশাদ উল্ল্যাহ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গ্রেপ্তাররা হলেন—সাকিব, সেতু, রিপন এবং হীরা। এদের মধ্যে হিরা ছাড়া বাকিরা মামলার এজাহারভূক্ত আসামি।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের কাউরিয়াপাড়া এলাকার পৌর ঈদগাহ মাঠে রানা আকবর মোল্লাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত রানা আকবর মোল্লা কাউরিয়াপাড়া এলাকার আলী আকবর মোল্লার ছেলে।

তিনি নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি।

বর্তমানে তার কোনো রাজনৈতিক পদবি না থাকলেও নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হিরুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন রানা। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি ও চাঁদাবাজির মোট ৪টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে নিহতের স্ত্রী লিজা আক্তার বাদি হয়ে প্রথমে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র কামরুজ্জামানকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে সদর মডেল থানায় যান। ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে আওয়ামী লীগ নেতার কোনো সম্পৃক্ততার না থাকায় মামলার অভিযোগ সংশোধনের পরামর্শ দেয় থানা-পুলিশ। পরদিন বুধবার দুপুরে মামলার বাদি আদালতের সরণাপন্ন হন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও মামলা দায়ের করতে না পেরে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতার নাম বাদ দিয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে গত বুধবার রাতে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন লিজা আক্তার। মামলাটি ১১ টার দিকে মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়।

এদিকে এই হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুলকে প্রধান আসামি করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কামরুল নরসিংদী পৌরসভার সাবেক দুইবারের মেয়র এবং আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী–১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

কামরুলের অভিযোগ, বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হিরু মামলার বাদীকে চাপ প্রয়োগ করে মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন।

কামরুল বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিহতের স্ত্রী লিজা আক্তার বাদী হয়ে প্রথমে আমাকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ নিয়ে সদর মডেল থানায় যান। ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে আমার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকায় অভিযোগ সংশোধনের পরামর্শ দেয় থানা–পুলিশ। পরবর্তীতে আমার নাম বাদ দিয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে গত বুধবার রাতে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী লিজা আক্তার। ’

কামরুল আরও বলেন, ‘পরে লিজা আক্তারের সাথে কথা বলার পর জানতে পারি, আমাকে আসামি করে লেখা অভিযোগটি রাজনৈতিক হীন স্বার্থে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের পরামর্শে তাঁর অনুসারী একজন আইনজীবীকে দিয়ে লেখার পর লিজাকে স্বাক্ষর করতে বলেন। নিহতের পরিবার আমার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলায় আমাকে আসামি করতে রাজি হননি। জেলা পুলিশের সঠিক তদন্তের কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়নি। তবে সংসদ সদস্য যে প্রভাব খাটিয়ে বাদীকে দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার চেষ্টা করেছেন, তার সব তথ্য–প্রমাণ পেয়েছি। ’

এর আগেও সাংসদ হিরু দলের বহু নেতা–কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কামরুল।  

তবে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মঙ্গলবার আমি ভূমি অফিসে গেলে নিহত রানার মা ও স্ত্রী আমার কাছে গিয়ে ন্যায়বিচার দাবি করেন। তখন উপস্থিত দুই আইনজীবীকে সহযোগিতার জন্য বলেছিলাম। কামরুজ্জামান কামরুলকে আসামি করতে বলিনি। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা কামরুলের লোক। যদি তাঁর সম্পৃক্ততা থাকে মামলার তদন্তে বের হয়ে আসবে।

মামলার বাদী লিজা আক্তার বলেন, হত্যার ঘটনার পর আমার মাথা কাজ করছিল না। প্রথমে আমরা ভুলবশত সন্দেহজনক হিসেবে সাবেক মেয়রকে আসামি করেছিলাম। পরে যখন বুঝতে পারি কারা জড়িত, ঠিক তাদের নামে মামলা করেছি। কারও চাপে পড়ে মামলায় আসামি করা বা বাদ দেওয়া হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক এরশাদ উল্ল্যাহ বলেন, এ হত্যার ঘটনায়  নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

news24bd.tv/তৌহিদ

এই রকম আরও টপিক

পাঠকপ্রিয়