লাগামহীন আলুর বাজার, বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

সংগৃহীত ছবি

লাগামহীন আলুর বাজার, বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

অনলাইন ডেস্ক

কোনোভাবে আলু-পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্য দুটির দাম আরেক ধাপ বেড়েছে। রাজধানীর বেশিরভাগ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায়। তবে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়।

 

সরকার প্রথমবারের মতো গত ১৪ সেপ্টেম্বর ডিমসহ তিনটি পণ্যের দাম বেঁধে দেয়। এর মধ্যে আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৫-৩৬ টাকা (হিমাগার পর্যায়ে ২৬-২৭) এবং দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয় ৬৪-৬৫ টাকা। শুরু থেকেই ব্যবসায়ীরা এই দামের তোয়াক্কা করছেন না।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে টানা সাত দিন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়।

এতে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়াতে হয়েছে। তা ছাড়া সরবরাহ কমে যাওয়ায় আলুর দামও বাড়ানো হয়েছে।

এক বছরের বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৯২ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছরের অক্টোবরে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৮২ থেকে ১০০ শতাংশ বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি রসুন কেজিতে ১৪৪ থেকে ১৮৬ শতাংশ দাম বেড়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ের ব্যবধানে আমদানীকৃত রসুন ২৮ থেকে ৫৪ শতাংশ দাম বেড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত এক বছরের ব্যবধানে খুচরা বাজারে আলু কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ শতাংশ দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।  

বৃহস্পতিকার (২৬ অক্টোবর) কাওরান বাজারে পাইকারি পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজের পাল্লা (পাঁচ কেজি) বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকায়। পাইকারি পর্যায়ে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পাল্লা মানভেদে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আলু প্রতি পাল্লা বিক্রি হয়েছে ২৬৫ থেকে ২৭০ টাকা। দেশি রসুনের পাল্লা ৯৮০ থেকে এক হাজার টাকা এবং আমদানি করা রসুন ৭৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার কাওরান বাজারের খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরায় দেশি রসুন প্রতি কেজি ২১০ থেকে ২২০ টাকা এবং আমদানিকৃত রসুন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরায় আলু প্রতি কেজি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারের পেঁয়াজ ও রসুনের পাইকারি বিক্রেতা মো. কামরুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কয়েক দিনের ব্যবধানে রসুনের দাম কিছুটা কমলেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। একদিকে দেশি পেঁয়াজের সংকট, অন্যদিকে কিছুদিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহে টান পড়েছে। এ কারণে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। ’

বৃহস্পতিবার কাওরান বাজারের পাইকারি আলু বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, ‘মাত্র দুই দিন আগেও আমরা পাইকারিতে প্রতি পাল্লা আলু ২৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ২৭০ টাকায়। প্রতিদিনই বাজারে আলুর দাম বাড়ছে। ’

রাজধানীর বাড্ডার মোদি দোকানি মো. আবু রায়হান বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজ এখন প্রতি কেজি ১১৫ টাকা বিক্রি করলেও আমাদের লাভ থাকছে না। কারণ পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে ১১২ টাকার মতো। তবে আমদানিকৃত পেঁয়াজ প্রতি কেজি মানভেদে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করছি। পাইকারিতে প্রতি কেজি আলু কিনতে আমাদের খরচ হচ্ছে ৫৪ টাকা, বিক্রি করছি ৬০ টাকা। ’  

news24bd.tv/আইএএম

এই রকম আরও টপিক