লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা

সংগৃহীত ছবি

লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা

অনলাইন ডেস্ক

পেঁয়াজের আমদানি বাড়লেও ক্রেতা সংকটের কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ থেকে ১০টাকা। পেঁয়াজের দাম কমায় কিছুটা খুশি বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা ব্যবসায়ীরা। দাম যেন আগের অবস্থায় ফিরে সেই দাবি তাদের। এদিকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ আমদানি করে কম দামে বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে দাবি আমদানি কারকদের।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ইন্দোর নগর ও নাসিক এই তিন জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। একদিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে প্রকারভেদে ৭৫ টাকা থেকে ৭৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নগর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে।  

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা তারিকুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার ছুটির পর বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরুর পর থেকেই পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

এর ওপর ডলার রেট বৃদ্ধির ফলে আরেকদফা বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। এরপর প্রায় প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম বাড়ছিল দাম বাড়তে বাড়তে প্রকারভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১০৫ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এতে আমরা যারা বন্দর থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকি তারা সবাই বিপাকে পড়ে ছিলাম। একেতো পেঁয়াজ ক্রয় করতে অনেক বাড়তি টাকা লাগছিল। সেই সঙ্গে বাড়তি দামের কারণে মোকামগুলোতে পেঁয়াজ ক্রয় কমিয়ে দেয়।  

তিনি আরও জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ ট্রাক পেঁয়াজ ক্রয় করে মোকামে পাঠাতাম সেটি কমে কোনদিন এক ট্রাক আবার কোনোদিন শূন্য এমন অবস্থায় নেমে এসেছিল। এতে আমাদের আয় রোজগার কমে যাওয়ায় বিপাকের মধ্যে পড়তে হচ্ছিল। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম আবার কিছুটা নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। মূলত এর কারণ হলো আমদানিকৃত পেঁয়াজের বাড়তি দামের ওপর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশি নতুন পাতা পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। যার কারণে মোকামগুলোতে পেঁয়াজের চাহিদা কিছুটা কমেছে। ফলে বন্দরে পেঁয়াজের ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। এর কারণে পেঁয়াজের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে ২০ থেকে ২৫ টাকার মতো কমে গিয়েছে। এতে আমাদের পেঁয়াজ কিনতে কিছুটা সুবিধা হচ্ছে দাম যেন আরও কমে সেই দাবি জানাচ্ছি।  

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। তবে ভারতে অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। এর কারণে বাড়তি দামে আমদানির ফলে পূজার বন্ধের পর বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলেও দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছিল। পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ২০০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলার থাকলেও নতুন করে গত ২৮ অক্টোবর সেটি বাড়িয়ে ৮০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেয় ভারত সরকার। এতে পেঁয়াজের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠে। আগের মূল্যের এলসির কিছু পেঁয়াজ বন্দর দিয়ে আমদানি অব্যাহত ছিল। বাড়তি ডলারের কারণে ব্যাংকগুলো যেমন চাহিদা মোতাবেক এলসি দিচ্ছিল না, তেমনি বাড়তি টাকা লাগায় সব আমদানিকারক এলসি খুলতে পারছিলেন না।  

পরবর্তীতে বন্দরের আমদানিকারকরা নতুন মূল্যে এলসি খুলতে শুরু করে। বিপরীতে ইতোমধ্যেই বন্দর দিয়ে নতুন মূল্যের সেই পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করছে। তবে পেঁয়াজের বাড়তি দামের কারণে মোকামগুলোতে পেঁয়াজ ক্রয় কমিয়ে দেয়ায় বন্দরে পেঁয়াজের ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সম্প্রতি গত কয়েকদিনের হরতাল অবরোধের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আগের মতো আসতে পারছে না। এছাড়া হরতাল অবরোধের মাঝে গাড়ি ভাড়া বেশি হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন মোকামগুলোতে পেঁয়াজ সরবরাহ কমে যায়। রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে অল্প সংখ্যক পেঁয়াজ পাঠানো সম্ভব হলেও বেশিরভাগ পেঁয়াজ দেশের উত্তরাঞ্চলের মোকামগুলোতে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। মূলত ক্রেতা সংকটের কারণে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ার আশংকায় বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে আমাদের। তবে বাড়তি দামে আমদানি করে কমদামে বিক্রি করায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে আমদানির পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে গত সপ্তাহের প্রথম থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি কমে ১০ থেকে ১৫ ট্রাকে নেমে আসে। তবে সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সেই পরিমাণ বেড়ে ২৫ ট্রাকে ৭৩১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধের পর শনিবার বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচাপণ্য অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত যেন আমদানিকারকরা বন্দর থেকে খালাস করে নিতে পারেন এজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেখেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
news24bd.tv/AA