‘বাংলাদেশে মধ্যপন্থী সরকার চায় ভারত’

রিকার্ড এম রসো

‘বাংলাদেশে মধ্যপন্থী সরকার চায় ভারত’

অনলাইন ডেস্ক

ভারত বাংলাদেশে একটি মধ্যপন্থী সরকার চায় বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিকার্ড এম রসো। তিনি বলেন, ভারতের কাছে বাংলাদেশে ‘মধ্যপন্থী সরকারের’ গুরুত্ব বেশি। এমনকি নির্বাচনে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হলেও ভারত এ দেশে এমন একটি মধ্যপন্থী সরকার প্রত্যাশা করে, যারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

নয়াদিল্লির বৈঠকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে এসব কথা বলেন রসো।  

রিকার্ড রসো বলেন, সাধারণ মানুষের কাছেও স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভারতেরও একটি অবস্থান আছে। ভারতের সেই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিন্ন। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভিন্ন অবস্থান তাদের আস্থায় চিড় ধরাবে বা দুই দেশকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করাবে কি না সেটিই তো প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বাংলাদেশ নিয়ে মতপার্থক্যকে পাশ কাটিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে কি না তা-ও আগামী দিনে স্পষ্ট হবে। সদ্যসমাপ্ত টু প্লাস টু বৈঠক এবং অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততার আলোকে মনে হচ্ছে, মতভেদ থাকলেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতবিরোধী ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান বা আধিপত্য- এটা ভারত চাইবে না। কেননা বাংলাদেশ ভারতের ঘরের কাছে। এটি হলে ভারতের ক্ষতি হতে পারে। তাই ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে চাইবে। বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের সঙ্গে মিলে ভারত স্থলসীমান্ত ও সমুদ্র অঞ্চল নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, প্রবেশাধিকার বৃদ্ধিসহ অনেক সাফল্য ভারত উপভোগ করছে।

বাংলাদেশে নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিষয়ে রিকার্ড রসো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সমালোচনা করে আসছে। ওই নির্বাচনগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে সমালোচনা আছে। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনে যারা বাধা দেবে, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতিও গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, অবশ্যই বাংলাদেশে একটি মধ্যপন্থী সরকার; যে সরকার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কাজ করতে চায়। এমন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ত হওয়া সহজ হবে।

ভারতের আরও কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে ভারতের নীতির পার্থক্য বিষয়ে জানতে চাইলে রিকার্ড রসো বলেন, এই অঞ্চলে অনেক ঘটনা ঘটছে। মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অবস্থান আর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এক নয়। মালদ্বীপে চীনপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসছে। শ্রীলঙ্কায়ও অস্থিরতা চলছে। আসলে এই অঞ্চলের বড় দেশ ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগুলো দেখে খুব স্বস্তিতে নেই।

তিনি বলেন, নয়াদিল্লির বৈঠক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সুযোগ এবং পরস্পরকে আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের আলোচনা ও যোগাযোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

news24bd.tv/আইএএম