এবার ‌‘মিথ্যাচার করতে’ জেনেভায় যাচ্ছে অধিকারের আদিলুর

আদিলুর রহমান

এবার ‌‘মিথ্যাচার করতে’ জেনেভায় যাচ্ছে অধিকারের আদিলুর

অনলাইন ডেস্ক

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘হিউম্যান রাইটস সিচুয়েশন অব বাংলাদেশ’ (Human Rights Situation of Bangladesh) শীর্ষক সেমিনার। তাতে প্যানেল বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছে হেফাজতকাণ্ডে মিথ্যাচারের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি অধিকারের আদিলুর রহমান।

২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযানে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর’ অভিযোগে মামলায় বিগত ১৪ সেপ্টেম্বর মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান এবং পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ অক্টোবর বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদের বেঞ্চ তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

তাদের মিথ্যাচার নিয়ে মামলা হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের নানামুখী অপতৎপরতা ও বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অতি উৎসাহের কারণে জল ঘোলা কম হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এবারও একই ধরনের কাজ করবে আদিলুর ও তার পৃষ্ঠপোষকরা।

কেমন প্রতিষ্ঠান ‘অধিকার’?

অধিকারের ওয়েবসাইট বলছে, এটি একটি মানবাধিকার সংগঠন। এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে।

মানবাধিকার, নারী নির্যাতনসহ বেশকিছু বিষয়ে কাজ করে তারা এবং এ সম্পর্কিত নানা রিপোর্ট প্রকাশ করে। ’৯৪ এ যাত্রা শুরু হলেও হেফাজতকাণ্ডের আগে তেমন একটা পরিচিতি ছিল না এই সংগঠনের।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলস্থ শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ জুন ২০১৩ তারিখে ‘অধিকার’ এর ওয়েবসাইটে ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় যাতে উক্ত সংঘর্ষে ৬১ জন নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সেই রিপোর্টে অন্যান্য সংঘর্ষের ছবি এবং বানোয়াট লাশের ছবিও সন্নিবেশিত করা হয়।

স্পর্শকাতর এই বিষয় নিয়ে সে সময় এমনিতেই প্রচুর রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। সে অবস্থায় এমন বানোয়াট তথ্য দিয়ে করা রিপোর্ট আগুনে আরও ঘি ঢালে। ষড়যন্ত্র করে জল ঘোলা করা এবং সরকারকে বিপদে ফেলার জন্যই এমন প্রতিবেদন করা হয়। তখনই মূলত পরিচিতি পায় এ ‘অধিকার’।

সম্পূর্ণ মিথ্যাচার আর সমালোচনার মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া একটি সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।  

আদিলুর-অধিকারের মিথ্যাচারের চেহারা

অধিকারের সেই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য অধিকার আইনে বিস্তারিত তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের আহ্বান জানানো হলে, মৃত ব্যক্তিদের তালিকা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

তালিকা প্রেরণ না করার  পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করা হলে তদন্তে বেরিয়ে আসে আদিলুরের মিথ্যাচার। আদালতে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেই রিপোর্টির নানা অসঙ্গতি।

দায়েরকৃত অভিযোগপত্র বিশ্লেষণ করে অধিকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন এবং নিহতের তালিকায় নানাবিধ অসঙ্গতি দেখা যায়। যেমন: উক্ত তালিকায় চারজন জীবিত ব্যক্তিকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়। পাঁচজন মৃত ব্যক্তির নাম দুইবার উল্লেখ করা হয়, হার্ট অ্যাটাকে মৃত একজন ব্যক্তিকে হেফাজতের ঘটনায় মৃত হিসেবে দেখানো হয়। পৃথক একটি ঘটনায় নিহত ছয়জন ব্যক্তির তালিকা সংযুক্ত করা হয়। সাতজন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রদান করা হয়নি এবং ১১ জন ভূয়া ব্যক্তির নাম তালিকায় সংযুক্ত করা হয়। অর্থাৎ, সেই ৬১ জনের তালিকায় ৩৪ জন সম্পর্কে সুনিশ্চিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হয়।

এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, সংস্থাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে, জন মনে ক্ষোভ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিল।

অপতথ্যের রাজনীতি ও আদিলুর

অপতথ্যের বিস্তার বলতে কোনো সত্যকে গোপন করার জন্য কিংবা জনমানুষকে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করে জনমতের ওপর প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রায়শই কূটকৌশলে ও গোপনে গুজবের আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটিকে বোঝায়।  একে ইংরেজি ভাষায় disinformation বলে।  

অপতথ্য তথা গুজব ছড়ানো বন্ধের লড়াইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ঐচ্ছিক নিয়মাবলি
রয়েছে। ঐচ্ছিক এ নিয়মাবলির পাশাপাশি ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) নামক নতুন একটি আইন চালু করেছে ইইউ।

একই বিষয়কে মোকাবিলায় দেশেও আইন রয়েছে এবং বিদ্যমান আইনেই আদিলুরের প্রমাণিত দোষের সাজা হয়েছে। অথচ এই বিষয়টি নিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা নানাবিধ প্রতিবাদ ও শঙ্কা প্রকাশ করার মতো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৩ নভেম্বর সেমিনার আয়োজন করেছে। সেমিনারের আগেই ধারণা করা যায়, আবারও সেই সেমিনারে পূর্বের মতো নানবিধ অপতথ্য প্রকাশ করবে আদিলুর। এবং সে সব তথ্য ঠিকমতো যাচাই-বাছাই না করাই বাংলাদেশের বিষয়ে সোচ্চার হবে মানবাধকার সংগঠনগুলো।

একইসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কীসের ভিত্তিতে বিদেশে গিয়ে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ডাক পান। এর পেছনে লুকানো রাজনীতিই বা কী?

news24bd.tv/আইএএম

এই রকম আরও টপিক