সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ |

কুস্তিতে ইরাকের মেয়েরা

নিউজ টোয়েন্টিফোর অনলাইন

কুস্তিতে ইরাকের মেয়েরা

মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশ এখন অলিম্পিকসহ নানা ক্রীড়া আসরের নারীদের ইভেন্টে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। পদকও ঘরে তুলছে। তবে কুস্তিতে এখনো মুসলিম নারীদের অংশগ্রহণ অনেকের ভাবনাতে আসে না। সেই চিত্রও বদলে দিয়েছে ইরাকের নারীরা। ঘরের মাঠেই নয়, কুস্তিতে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে পদকও জয় করেছেন আলিয়া নামের এক ইরাকি নারী।

কিন্তু, ইরাকের মতো একটা রক্ষণশীল দেশের নারীরা কীভাবে কুস্তিতে নাম লেখালেন সেই প্রশ্ন অনেকের। মূলত সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকে মার্কিন আধিপত্য বিস্তার হলে বদলাতে থাকে সেখানকার সংস্কৃতিও। সেই পরিবর্তনের হাত ধরে একসময় ইরাকি নারীদের পোশাকেও আসতে থাকে পাশ্চাত্যের ছাপ। মডেলিং, ফ্যাশন শো, খেলাধুলাসহ যেসব বিষয়ে এতদিন সামাজিক নিষেধাজ্ঞা ছিল সেগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন কুস্তিতে অংশ নিচ্ছেন ইরাকের নারীরা।

এর শুরুটা মেয়েদের স্কুলের শিক্ষিকা নেহায়া দাহেরের হাত ধরে। তার উদ্যোগে ইরাকের দিওয়ানিয়া শহরে শুরু হয় মেয়েদের কুস্তি প্রশিক্ষণ। প্রথমদিকে সমাজের নানা অংশ থেকে বিরোধিতা আসে। তবে বিরোধীতার মধ্যেই বেশ কয়েকটি মেয়ে কুস্তি শিখতে নেহায়ার স্কুলে ভর্তি হন। এখন ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি প্রায় ২০ জন নারীকে নিয়ে গড়ে উঠেছে কুস্তি টিম৷। যদিও সবাই বোরখা-হিজাব পরে কুস্তি শিখতে আসেন, তবে কুস্তির সময় শর্টস, টাইটস বা টি-শার্ট পরে অংশ নেন।

আলিয়া ইতোধ্যে বৈরুতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে রৌপ্য পদক জিতেছেন। তাঁর ইচ্ছা, স্কুল শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শারীরিক শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করার।

ইরাক একটি মুসলিমপ্রধান দেশ হওয়ায় মেয়েদের কুস্তির প্রতি স্বাভাবিকভাবেই একটা চাপা বিরোধিতা ছিল। কিন্তু উদ্যোক্তাদের ধারাবাহিকতা ও ধৈর্যের কারণে মেয়েদের বাড়ির লোকেদের তাঁরা বোঝাতে পেরেছেন। বর্তমানে দিওয়ানিয়া শহরে নারী কুস্তিগীরদের ভক্তসংখ্যাও বাড়ছে। হামিদ আল-হামদানি বর্তমানে মেয়েদের কুস্তি দলের প্রধান কোচ। বিদেশে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে অন্য দেশের মেয়েদের কুস্তি করতে দেখে হামিদ ইরাকেও এমন কিছু করতে উৎসাহী হন। ইরাকের কুস্তি ফেডারেশনের মুখপাত্র আহমাদ শামসেদ্দিনের নারীদের কুস্তির প্রতি সমর্থন রয়েছে। দিওয়ানিয়ার মেয়েদের পর এখন গোটা ইরাকে কুস্তি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে উঠছে।

মন্তব্য