বৃষ্টি শেষে বাড়তে পারে শীত

সংগৃহীত ছবি

বৃষ্টি শেষে বাড়তে পারে শীত

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'মিধিলি'র প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টি শেষে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ঘূর্ণিঝড় 'মিধিলি'র প্রভাবে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় ৩ থেকে ৫ ফুটের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এই ঘূর্ণিঝড় খুব বড় ধরনের হবে না। তবে সতর্ক অবলম্বন করতে হবে। কারণ যেকোনো সময় এই বৃষ্টির কারণেও পাহাড়ধস হতে পারে।  রাত ১২টার পরে ঘূর্ণিঝড়টি পার হয়ে গেলে ধীরে ধীরে বৃষ্টি কমে আসবে।
আর বৃষ্টি শেষে সারাদেশে শীতের তীব্রতা বাড়বে।  

এদিকে মোংলা ও পায়রা এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণঝড় মিধিলি। দুপুর দেড়টার দিকে মিধিলির অগ্রভাগ উপকূল স্পর্শ করে। সন্ধ্যা নাগাদ এটি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতিভারী (২৮৯ মি.মি.) বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মিমি) থেকে অতি ভারী (২৮৯ মিমি) বর্ষণ হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
news24bd.tv/AA

পাঠকপ্রিয়